সা ক্ষাৎ কা র
গ্যালারিতে বসে ছোটন বললেন, মনে কোনো কষ্ট নেই
বৃহস্পতিবার গ্যালারিতে বসে খেলা দেখেন নারী ফুটবল দলের সাবেক কোচ গোলাম রাব্বানি ছোটন
--
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৩ | ০৪:২৬
কমলাপুরের সবুজ টার্ফ আগের মতোই আছে। লাল-সবুজের জার্সি গায়ে সাবিনা খাতুনরা মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। গ্যালারিতে দর্শকরা ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ স্লোগানে মুখরিত। সবকিছুর মধ্যে একটা হাহাকার ছিল সবার মধ্যে। বাংলাদেশের ডাগআউটে যাঁর চিৎকারের আওয়াজ সবাই শুনত, বৃহস্পতিবার সেই গোলাম রব্বানী ছোটন গ্যালারিতে দর্শকসারিতে।
অভিমানে বাফুফের চাকরি ছেড়ে দেওয়া ছোটনকে কাছে পেয়ে কেউ সেলফি তুলছেন, কেউ বা জোরে জোরে বলছেন ‘স্যার’কে চাই। এত কিছুর মধ্যেও ছোটন আছেন আগের মতোই স্বাভাবিক। তাঁর সামনে মেয়েরা খেললেও কোচ হিসেবে কোনো অতৃপ্তি নেই বলে জানান। ১০ মাস পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা মেয়েদের পারফরম্যান্সে ঘাটতি চোখে পড়লেও কৃষ্ণা রানী-মনিকা চাকমাদের পারফরম্যান্সে খুশি। ১৪ বছর পর মেয়েদের ম্যাচে প্রথমবার ডাগআউটের বাইরে থাকাসহ নানা বিষয়ে সমকালের সঙ্গে কথা বলেছেন ছোটন।
ছোটন : পার্থক্যটা হলো, আমি এখন টিমের সঙ্গে নেই। তাই একজন দর্শক হিসেবে গ্যালারিতে এসে খেলা দেখতেছি।
সমকাল : আপনার সামনে মেয়েরা খেলছেন। অন্য সময় ডাগআউটে থাকলে চিৎকার করতেন। এখন তো চুপ করে বসে আছেন।
ছোটন : না। আগের যেই স্মৃতিগুলো, সবকিছু আমি ভুলে যেতে চাই। আমি কালকেই বলেছি, সংবাদ সম্মেলনে আপনাদের সামলানোর জন্য তিন দিন আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতাম। কে কী প্রশ্ন করবে, সেগুলো আন্দাজ করে হোমওয়ার্ক করতাম। কিন্তু গতকাল (বুধবার) যখন বাংলাদেশ দলের সংবাদ সম্মেলন ছিল, তখন দূরে ছিলাম ঠিকই, তবে ভালো অনুভব করেছিলাম এই ভেবে, সাংবাদিকদের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে না। এখন আমি খুব বিশ্রামে আছি। গ্যালারিতে বসে খেলা দেখছি, বাদাম খাচ্ছি।
সমকাল : মেয়েদের খেলা দেখেছেন। একজন কোচ হিসেবে কী কী ভুল আপনার দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে।
ছোটন : প্রথম ১০ মিনিট মেয়েরা ভালো খেলেছে। এর পর আস্তে আস্তে নেপাল ম্যাচটি ধরে ফেলে। মিডফিল্ড ধরে নিয়ে তারা আক্রমণগুলো শানাচ্ছে। আপনি নেপালের বিপক্ষে সাফের ফাইনাল ম্যাচটি দেখেন, ওই ম্যাচে কাদার মাঠেও আমরা পুরো সময় আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছি। যেহেতু ১০ মাস পর আমরা খেলছি, সেহেতু জড়তা থাকাটাই স্বাভাবিক। তার পরও আমি মনে করি, এই মেয়েরা ভালো খেলছে।
সমকাল : কয়েকজন জাতীয় দল ছেড়ে দিয়েছেন। কোন জায়গায় সমস্যা আছে বলে মনে হচ্ছে?
ছোটন : এ ব্যাপারে কথা বললে আমি মনে করি, সিরাত জাহান স্বপ্নার অভাব ফুটে উঠেছে। আর আঁখি খাতুন থাকলে যে লং বলগুলো আসত আর হেডের মাধ্যমে যেটা করতাম, ওই জায়গাগুলো মিস করেছি। তবে আফিদা খাতুনের খেলা আমার ভালো লেগেছে। এর পর শামসুন্নাহার জুনিয়রের কথা বলতে হয়। সে অভিজ্ঞ। সাফের ফাইনালে শামসুন্নাহার গোল করেই কিন্তু ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। সে থাকলে আমি মনে করি, নেপাল ডিফেন্সের জন্য একটু কঠিন হতো।
সমকাল : ম্যাচের আগের দিন মেয়েদের সঙ্গে আপনার কথা হয়েছে?
ছোটন : অনেকে কাল রাত এবং আজকে সকালে ফোন করে দোয়া চেয়েছে। আমি বলেছি, যেহেতু তোমরা সাফের চ্যাম্পিয়ন, সেহেতু তোমরা ভালো ফুটবল খেল। দর্শকরা তোমাদের ভালো ফুটবল দেখতে চায়।
সমকাল : আপনার হাত ধরেই মেয়েরা এই জায়গায় এসেছেন। মনের মধ্যে কোনো চাপা কষ্ট আছে কিনা?
ছোটন : সত্যি কথা বলতে কী, আমার কোনো কষ্ট নেই। কোনো অতৃপ্তি নেই। ১৪ বছর সাউথ এশিয়ান ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে মেয়েদের সব প্রতিযোগিতাতেই ছিলাম। দলকে চ্যাম্পিয়ন করেছি। তাই আমি মনে করি, এ পর্যায়ে এসে কোনো অতৃপ্তির জায়গা নেই।
সমকাল : সাফ চ্যাম্পিয়ন দলের কোচ হিসেবে সাধারণ গ্যালারির জায়গায় ভিআইপি গ্যালারিতে বসতে পারতেন।
ছোটন : আমি ইচ্ছা করেই ভিআইপিতে যাই নাই। সেখানে গেলে তো বসতে দিত। আর বাফুফে থেকে কারও জানানো এসব ফরমালিটি আছে বলে আমি মনে করি না। ছোটবেলা থেকে যখন খেলা দেখি, আমি সব সময় গ্যালারিতে বসে দেখেছি।
সমকাল : এগিয়ে গিয়েও ড্র করলাম।
ছোটন : আমাদের মনোযোগের ঘাটতি ছিল। মেয়েদের দেখে মনে হয়েছে, তারা ক্লান্ত। আর ক্লান্ত হলে মনোযোগে বিঘ্নঘটা স্বাভাবিক। সেটাই হয়েছে। তার পরও আমি বলব, ১০ মাস পর ম্যাচ খেলা মেয়েরা খুব একটা খারাপ খেলেনি।