অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে কঠোর বিওএ
ছবি: বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের লোগো
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ২২ জুলাই ২০২৩ | ০৬:০৯
এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) কর্মকর্তাদের বেড়ে গেছে ব্যস্ততা। গত সপ্তাহে ফেডারেশনগুলো তাদের খেলোয়াড় এবং অফিসিয়ালদের নাম জমা দিয়েছে বিওএতে। ইতোমধ্যে অ্যাথলেট এবং অফিসিয়ালদের তালিকাও চূড়ান্ত হয়েছে। সেপ্টেম্বরে চীনের হ্যাংঝুতে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসে ১৭টি ডিসিপ্লিনে অংশ নেবে বাংলাদেশ।
২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় ১৪টি ডিসিপ্লিনে ১১৭ জন অ্যাথলেট অংশ নিয়েছিল। এবার সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮২। গত আসরে শুধু ছেলেদের ফুটবল ছিল, এবার মেয়েদের ফুটবলেও আছে বাংলাদেশ। এর বাইরে প্রশিক্ষক ও টিম ম্যানেজারের সংখ্যা হলো ৫০। খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তা মিলে হ্যাংঝুতে যাচ্ছেন ২৩২ জন। যদিও এই তালিকায় কাটছাঁটের সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছে অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের একটি সূত্র। চীনের হ্যাংঝুতে ২৩ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ৮ অক্টোবর শেষ হবে এশিয়ান গেমসের ১৯তম আসর।
প্রতিটি গেমসে বাংলাদেশের জন্য মাঠের চেয়ে বাইরের ইস্যুটিই বড় আকার ধারণ করে। গত বছর বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে খেলা বাদ দিয়ে আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন টেবিল টেনিসের দুই খেলোয়াড়। তাদের ফেডারেশন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিষিদ্ধও করেছে। এর সঙ্গে আছে পালিয়ে যাওয়ার অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা। তাই অনাকাঙ্ক্ষিত এসব ঘটনা এড়াতে এবার কঠোর বিওএ, ‘এসব কিছু কখনোই কাঙ্ক্ষিত নয়। কমনওয়েলথ গেমসে যারা খেলা রেখে ঘুরতে চলে গেছে তাদের ফেডারেশন শাস্তি দিয়েছে। তেমনটা যেন না হয় সেদিকে নজর অবশ্যই থাকবে। এবার আমরা আরও কঠোর হবো’– বলেন এশিয়ান গেমসে সেফ দ্য মিশন এ কে সরকার।
এশিয়াডের এবারের আসরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বহরটি হলো ফুটবলে। ছেলে ও মেয়ে মিলিয়ে ৪৪ জন খেলোয়াড়ের সঙ্গে ৮ কর্মকর্তা মিলে সংখ্যাটা ৫২। অংশগ্রহণকারী অ্যাথলেটের সংখ্যায় দুইয়ে ক্রিকেট (৩০ জন)। পুরুষ ও নারী মিলিয়ে কাবাডিতে ২৪, শুটিংয়ে ১৮ অ্যাথলেট লড়বেন। আরচারিতে ছেলে ও নারী মিলিয়ে নিশানা ভেদে নামবেন ৮ তীরন্দাজ।
অ্যাথলেটিকসে শুধু অংশ নেবেন ইমরানুর রহমান। ফেন্সিংয়ে তিন অ্যাথলেটের সবাই নারী। ব্রিজে ৪, গলফে ২, জিমন্যাস্টিকসে ২, কারাতে ৫, সুইমিংয়ে ২, তায়কোয়ানদো এবং ভারোত্তোলনে সমান ৩, দাবায় ৫ এবং বক্সিংয়ে খেলবেন দুই অ্যাথলেট। গেমসকে সামনে রেখে সব ফেডারেশনই অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের তত্ত্বাবধানে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে জটিলতাও সৃষ্টি হয়েছে নারী ফুটবল দলের নতুন কোচ সাইফুল বারী টিটুকে নিয়ে।
বিওএতে যখন বাফুফে নাম পাঠিয়েছিল, তখন টিটুর জায়গায় প্রধান কোচ হিসেবে ছিল মাহবুবুর রহমান লিটুর নাম। তাই নতুন করে টিটুর নাম অন্তর্ভুক্তি করতে অনুরোধ করেছে ফুটবল ফেডারেশন।
তাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কর্তারা ইতোমধ্যে এশিয়ান গেমসের আয়োজকদের কাছে নাম পাঠিয়েছে। অ্যাক্রিডিটেশনের আবেদন শেষ হওয়াতেই মূলত এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তবুও চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে শুক্রবার সমকালকে জানান সেফ দ্য মিশন এ কে সরকার, ‘অ্যাক্রিডিটেশনের সময় শেষ। তার পরও আমরা ফুটবলে নারী দলের কোচ সাইফুল বারী টিটুর নাম দিয়েছি। এখন তারা যদি আবেদনটি মঞ্জুর করে তাহলে যেতে পারবেন, আর না করলে তো করার কিছু নেই। তবে করার জন্য আমরা অনুরোধ করেছি।’
বিদেশে কোনো প্রতিযোগিতা হলে দেখা যায় কর্মকর্তাদের লাইন পড়ে যায়। এবার অবশ্য সবকিছুই নীতিমালার মধ্যে করেছে অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন। তাই চাইলেও সংখ্যার অধিক কেউ গেমসে যেতে পারবেন না বলে জানান সেফ দ্য মিশন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে কোনো ফেডারেশনই অতিরিক্ত তালিকা দেয়নি। বিওএর নির্দেশনা অনুযায়ী তারা নাম পাঠিয়েছে। কারণ, সবাই জানে বিশ্ব অর্থনৈতিক অবস্থা।’
- বিষয় :
- বিওএ
- এশিয়ান গেমস
- এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ