ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আতঙ্ক ছড়ানো নয় সতর্ক থাকুন

বিশেষ মন্তব্য

আতঙ্ক ছড়ানো নয় সতর্ক থাকুন

প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২০ | ১৯:৩৯ | আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২০ | ২১:৪৪

করোনাভাইরাস নিয়ে দেশব্যাপী এক ধরনের আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি সর্বত্রই আলোচনার কেন্দ্রে এই ভাইরাস। এ অবস্থায় সবার প্রতি পরামর্শ থাকবে, করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হবেন না। কারণ এই রোগে মৃত্যুহার খুব বেশি নয়। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, করোনায় মৃত্যুহার ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। সুতরাং এটি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু আমাদের কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। সেগুলো যথাযথভাবে মেনে চললেই এই ভাইরাসের সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব হবে।

জ্বর দিয়ে এ রোগের লক্ষণ শুরু হয়। জ্বরের সঙ্গে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা থাকতে পারে। এক সপ্তাহের  মধ্যে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। সাধারণ ফ্লুর মতোই হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। সুতরাং আক্রান্ত কাউকে পাওয়া গেলে প্রথমেই তাকে নূ্যনতম ১৪ দিন আলাদা করে রাখতে হবে, যাতে আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের সংস্পর্শে না যেতে পারে। একই সঙ্গে যারা আক্রান্ত হয়নি, তাদের চলাফেরায় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। লক্ষণগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মতো। কারও ক্ষেত্রে ডায়রিয়াও দেখা দিতে পারে। তবে মানুষের দেহে ভাইরাসটি সংক্রমণের পর এক থেকে ১৪ দিনের মধ্যে লক্ষণ দেখা দিতে পারে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিনের মধ্যে এমনিতেই সেরে যায়। কিন্তু কিডনি, ডায়াবেটিস, হৃদযন্ত্র কিংবা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে এটি নিউমোনিয়া, রেসপিরেটরি ফেইলিউর অথবা কিডনি অকার্যকারিতার দিকে মোড় নিতে পারে। এতে করে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু ঘটতে পারে।

যে কোনো ভাইরাস প্রতিরোধে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রেও সেই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এজন্য ঘরের বাইরে মাস্ক ব্যবহার, গণপরিবহন এড়িয়ে চলা, প্রচুর ফলের রস এবং পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে, ঘরে ফিরে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে। কিছু খাওয়া কিংবা রান্নার আগে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে, ডিম কিংবা মাংস রান্নার করার আগে ভালোভাবে সিদ্ধ করে, ময়লা কাপড় দ্রুত ধুয়ে ফেলা, নিয়মিত ঘর এবং কাজের জায়গা পরিস্কার রাখা এবং অপ্রয়োজনে ঘরের দরজা-জানালা খুলে রাখা যাবে না। জনসমাগম এড়িয়ে চলবেন। তাহলেই অনেকটা নিরাপদ থাকা যাবে। তাই কেউ জ্বরে আক্রান্ত হলে পরামর্শ থাকবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া।

আইইডিসিআর হটলাইন চালু করেছে। সেখানে ফোন করে আপনার শারীরিক অবস্থা অবহিত করুন। এরপর প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিন, ভালো থাকুন।

লেখক : সাবেক ডিন, মেডিসিন অনুষদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন

×