ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পুলিশ র‍্যাবের সঙ্গে থাকবে বিজিবিও

পুলিশ র‍্যাবের সঙ্গে থাকবে  বিজিবিও

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৩ | ১৯:১২ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

বিএনপি ও জামায়াতের তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচিতে নাশকতা ঠেকাতে শক্ত অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। অবরোধের সময় সব মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল দেবে বিজিবি। গতকাল সোমবার রাতেই বিজিবির ওই টহল শুরু হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। ২৮ অক্টোবরের মতো কোথাও জ্বালাও-পোড়াওয়ের মতো ঘটনা ঘটলে কঠিন অবস্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। রাজধানীর প্রবেশ পয়েন্টগুলোতেও থাকছে চেকপোস্ট।সূত্র বলছে, অবরোধ কর্মসূচিতেও বিএনপি-জামায়াতের নাশকতার শঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না প্রশাসনের কর্মকর্তারা। চোরাগোপ্তা হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণে রাজধানীসহ সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। চলাচল বা পণ্য পরিবহনে কোথাও বাধা দেওয়া হলে অথবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ জন্য টহলের পাশাপাশি চলছে গোয়েন্দা নজরদারি। বিশেষ করে মহাসড়ক ও রেলপথের নিরাপত্তায় বাড়তি নজর দেওয়া হয়েছে। গুজব বা মিথ্যা তথ্য, ছবি দিয়ে কেউ যেন অস্থিতিশীলতা বা আতঙ্ক ছড়াতে না পারে, সে ব্যাপারে কাজ করছে সাইবার টিম। আইনশৃঙ্খলার অবনতি বা নাশকতার কোনো তথ্য থাকলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করে জানানোর অনুরোধ করেছে পুলিশ সদরদপ্তর।ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, ‘রাজনৈতিক কর্মসূচি কোনো ধ্বংসাত্মক কাজের অংশ হতে পারে না। যারা এমন কর্মসূচিতে সায় দেবে, তাদের কথা আলাদা। যদি কেউ সায় না দেন, তাহলে তাঁর সুরক্ষা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। কেউ যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তাহলে পুলিশ দায়িত্বের জায়গা থেকে আইন প্রয়োগ করবে।’তিনি জানান, অবরোধে ঢাকাবাসীর জানমালের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা করা হয়েছে। ডিএমপির নিরাপত্তা পরিকল্পনায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সহযোগিতা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।বিএনপি-জামায়াত প্রসঙ্গে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই, তবে তারা যে নাশকতা করবে– সমসাময়িক কর্মকাণ্ড তার ইঙ্গিত দেয়।’এদিকে ঢাকার বাইরের সব জেলার পুলিশ অবরোধ কর্মসূচিতে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গতকাল দফায় দফায় বৈঠক করে। জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হলে আপত্তি নেই। তবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে কঠোরভাবে দমন করা হবে।রেলপথে যেন কেউ নাশকতা করতে না পারে সে ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেওয়াহয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সহায়তায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে রেল পুলিশ।পণ্যবাহী যান চলাচলে এসকর্টজেলা ও মহানগর পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে মহাসড়কে পণ্যবাহী যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুতি নিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। এমনকি পণ্য নিরাপদে পৌঁছে দিতে প্রয়োজনে ‘কনভয় আকারে’ বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়া হবে। পণ্যবাহী যানবাহনের সামনে-পেছনে ও মাঝখানে ‘এসকর্ট’ থাকবে। হাইওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ‘মহাসড়কের নিরাপত্তায় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে যাত্রার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো সড়কে পণ্যবাহী গাড়ির নিরাপত্তা দেওয়া হবে।’র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘অবরোধে জনজীবন স্বাভাবিক রাখা, জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ সুরক্ষায় র‍্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়নের তিন শতাধিক টহল দল কাজ করবে। পাশাপাশি দেশব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি চলবে। কেউ নাশকতা বা সহিংসতার চেষ্টা করলে দ্রুত শনাক্ত করে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’ বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় র‍্যাবের স্পেশাল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স রিজার্ভ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।খন্দকার আল মঈন জানান, সিসি ক্যামেরা, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে সাম্প্রতিক নাশকতা এবং সহিংসতায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে র‌্যাব। এ ছাড়া রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে স্বার্থান্বেষী মহল অনলাইনে উস্কানিমূলক বক্তব্য, মিথ্যা তথ্য বা গুজব ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। র‍্যাবের সাইবার মনিটরিং টিম তাদের শনাক্তকরণে নজরদারি করছে।

আরও পড়ুন

×