করোনার কারণে রপ্তানিতে প্রথম বড় পতন হয় গত বছরের এপ্রিলে। মাত্র ৫২ কোটি ডলার রপ্তানি হয় ওই মাসে এবং কমে যায় ৮১ শতাংশ। অত্যন্ত নিম্ন এ ভিত্তির কারণে এ বছরের এপ্রিলে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫০৩ শতাংশ। তবে আগের মাস মার্চের চেয়েও রপ্তানি বেড়েছে। ফলে বাংলাদেশে করোনার দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ বৃদ্ধির মাসে রপ্তানি চিত্র স্বাভাবিক রয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিলে রপ্তানি হয়েছে ৩১৩ কোটি ডলারের পণ্য। এর আগের মাস মার্চে যা ছিল ২৭৩ কোটি ডলার। জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাস থেকে শুরু করে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে মোট রপ্তানি গত অর্থবছরের চেয়ে কম ছিল। এপ্রিলে তুলনামূলক ভালো হওয়ায় ১০ মাসে ইতিবাচক ধারায় এসেছে রপ্তানি। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত রপ্তানি আয় বেড়েছে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ১০ মাসে রপ্তানি হয়েছে তিন হাজার ২০৭ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৯৪৯ কোটি ডলার। জুলাই-মার্চ পর্যন্ত রপ্তানি ছিল গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ১২ শতাংশ কম।

বরাবরের মতো এবারও তৈরি পোশাকই গোটা রপ্তানি চিত্রে প্রভাব রেখেছে। আলোচ্য সময়ে পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ২৪ শতাংশ। গত মার্চ পর্যন্ত ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ কম ছিল। ১০ মাসে দুই হাজার ৬০০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। আগের একই সময়ে যা ছিল দুই হাজার ৪৪৮ কোটি ডলার। বিজিএমইএর সহসভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম সমকালকে বলেন, ৫০৩ শতাংশ রপ্তানি বৃদ্ধি স্বাভাবিক রপ্তানি চিত্র নয়। গত বছরের মার্চে করোনার প্রথম ধাক্কায় মাত্র ৫২ কোটি ডলারের সঙ্গে তুলনায় এত বেশি রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। বাস্তবে এ সময়েও ওভেনের রপ্তানি কম প্রায় ৩ শতাংশ।

আলোচ্য সময়ে পোশাকের বাইরে উল্লেখযোগ্য পণ্যের মধ্যে রপ্তানি বেড়েছে পাট ও পাটপণ্যের ৩১ শতাংশ। কাঁচাপাট বাদে এ খাতের সব পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে। প্রথমবারের মতো ১০৪ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে রপ্তানি। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। ওষুধের রপ্তানি বেড়েছে ১২ শতাংশ। সবজি রপ্তানিও বেড়েছে ৯ শতাংশের মতো।

মন্তব্য করুন