বিধবাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভঙ্গ করায় কর্মচারীকে দুই টুকরো
নিহত মতিউর রহমান ও ঘাতক মো. হারিছ মিয়া।
কিশোরগঞ্জ অফিস
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২২ | ০৬:৪১ | আপডেট: ১০ জুন ২০২২ | ০৬:৪১
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে হোটেল কর্মচারী মতিউর রহমান ওরফে মতি মিয়াকে (৫৫) দ্বিখণ্ডিত করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত হোটেল মালিক মো. হারিছ মিয়াকে (৫০) গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত জানিয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাদ্দাম হোসেন ১৬৪ ধারায় হারিছ মিয়ার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। স্বীকারোক্তিতে তিনি জানান, হারিছ মিয়ার বিধবা বোনকে কর্মচারী মতিউর রহমান ওরফে মতি মিয়া বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পরে অন্যত্র বিয়ে করেন। এছাড়া তিনি ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়ে হারিয়ে ফেলার অজুহাত দেখান। এতে হারিছ মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে ঘুমের ওষুধ মেশানো কোক খাইয়ে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটান। লাশের দুই টুকরোর মধ্যে একটি অংশ একটি কবরের পাশে এবং অন্য অংশ কাঁথা দিয়ে মুড়িয়ে বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দেন।
নিহত মতিউর রহমান ওরফে মতি মিয়া উপজেলার গুণধর ইউনিয়নের সুলতাননগর গ্রামের মৃত তাহের উদ্দিনের ছেলে। ঘাতক মো. হারিছ মিয়া একই গ্রামের মৃত আব্দুল হাফিজের ছেলে।
মরিচখালী বাজারে তার ভাতের হোটেল রয়েছে। মতিউর রহমান সেই হোটেলে কাজ করতেন।
পিবিআই কিশোরগঞ্জ জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন পিপিএম জানান, গত ২৭ মে দুপুরে সুলতাননগর গ্রামের একটি কবরের পাশ থেকে মতিউর রহমান ওরফে মতি মিয়ার কোমর থেকে খণ্ডিত লাশের উপরের অংশ উদ্ধার করা হয়। দ্বিখণ্ডিত লাশ পাওয়ার পর পিবিআই কিশোরগঞ্জ জেলার ক্রাইমসিন ইউনিট ঘটনাস্থল পর্রিদশন করে এবং ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে। এ ঘটনায় নিহত মতিউর রহমানের ছেলে মো. রমজান বাদী হয়ে করিমগঞ্জ থানায় মামলা করেন। গত বৃহস্পতিবার ভোররাত আড়াইটার দিকে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জের জিমটি বাজার এলাকায় অভিযান করে পিবিআই সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে মো. হারিছ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই'র পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ সাখরুল হক খান জানান, মতিউর রহমান ও হারিছ মিয়ার মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। ৫-৬ বছর আগে মতিউর রহমানের স্ত্রী মারা যান। এরপর তিনি দিনে হোটেলে কাজ করে রাতে হারিছ মিয়ার সাথে হোটেলেই ঘুমাতেন। হারিছ মিয়ার বিধবা বোন রেজিয়াকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মতিউর রহমান। কিন্তু গত ২১ মে তিনি দোলেনা নামের আরেক নারীকে বিয়ে করেন।