ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুনামগঞ্জ

মাসিক টোকেনে ঘোরে চাকা

মাসিক টোকেনে ঘোরে চাকা
×

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ২০ জুন ২০২৩ | ০৬:৩৭

সুনামগঞ্জে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের থেকে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অটোরিকশার মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নামে এই চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। জেলা অটোরিক্সা, মিশুক ও ট্যাক্সিক্যাব ড্রাইভার ইউনিয়নের পক্ষ থেকে চালকদের কাছ থেকে প্রতিদিন ৩০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও মালিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও মাসে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ সুনামগঞ্জ অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় নিবন্ধিত সিএনজি অটোরিকশার সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার সাতশ। এই বাইরেও পাঁচ থেকে সাত হাজার অটোরিকশা সড়কে চলছে, যাদের কোনো নিবন্ধন নেই।

গত মঙ্গলবার কয়েকটি সিএনজি স্টেশনে গিয়ে চালকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, সড়কে চলা অটোরিকশা চালকদের কাছ থেকে জেলা ড্রাইভার ইউনিয়নের পক্ষ থেকে প্রতিদিন ৩০ টাকা করে আদায় করা হলেও রসিদে ২০ টাকা উল্লেখ করা হয়। যদিও সংগঠনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের ব্যাপারটি অস্বীকার করা হয়। এছাড়াও জেলা অটোরিকশা, বেবি ট্যাক্সি ও টেক্সিক্যাব মালিক সমিতির পক্ষ থেকেও টাকা তোলা হয়। নিবন্ধন আছে এমন অটোরিকশা থেকে ২০০ টাকা ও নিবন্ধনহীন অটোরিকশা থেকে ৩০০ টাকা করে তোলা হয়। যদিও সংগঠনের নেতাদের দাবি, নিবন্ধন আছে এমন অটোরিকশা থেকে ১৫০ টাকা ও নিবন্ধন নেই এমন অটোরিকশা থেকে ২৫০ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়।

অটোরিকশা চালক আরিফ রহমান (ছদ্মনাম) বলেন, মাসিক টোকেন বাবদ প্রতি মাসে তিনশ টাকা করে দেন তিনি। টাকা না দিলে সড়কে ট্রাফিক পুলিশ সমস্যা করে। অটোরিকশা চালাতে দেয় না। তিনি বলেন, প্রতি মাসে কারা টাকা দিয়েছে, কারা দেয়নি, তাদের তালিকা রয়েছে। তাই ঝামেলা এড়াতে টাকা দেন তিনি।

রাকিবুল ইসলাম (ছদ্মনাম) নামে অপর এক চালক বলেন, মাসিক চাঁদার টোকেন দেখালে পুলিশ রাস্তায় গাড়ি আটকায় না। যদিএ তাঁর ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং অটোরিকশার নিবন্ধন কোনোটিই নেই। টোকেন সঙ্গে না থাকলে কোথাকার গাড়ি, এ প্রশ্ন তুলে হেনস্থা করে পুলিশ। সুনামগঞ্জ সদরের অধীনে এই গাড়ি রয়েছে, এর প্রমাণ হলো তিনশ টাকার রসিদ।

জেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মিশুক ও ট্যাক্সিক্যাব ড্রাইভার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমিন (কালা) বলেন, তাঁরা কোনো চালকের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেন না। চাঁদার টাকার ১০ টাকা প্রতি স্টেশনের ম্যানেজারকে দেওয়া হয়। বাকি ১০ টাকা শ্রমিকদের কল্যাণ ট্রাস্টে জমা হয়। সেখান থেকে চালকদের বিভিন্ন সমস্যায় সহযোগিতা করা হয়।

তবে চালকদের অভিযোগ, সংগঠনের কল্যাণ ফান্ড থেকে তেমন কোনো সহযোগিতা পান না তাঁরা। প্রায় সাত বছর ধরে অটোরিকশা চালান জহির রহমান (ছদ্মনাম)। তিনি জানান, তিন বছর আগে এক দুর্ঘটনায় এক যাত্রীর পা ভাঙে। পরে চিকিৎসা বাবদ ৫ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হয়েছে তাঁকে। তিনি বলেন, সমিতির অফিসে বসেই বিচার হয়েছে। সেখানে চিকিৎসাবাবদ যাত্রীকে টাকা তাঁকেই দিতে হয়েছে। সংগঠন তাঁকে কোনো আর্থিক সহযোগিতা করেনি।

জেলা সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বেবিট্যাক্সি, টেক্সিক্যাব মালিক সমিতির সভাপতি মো. তাজিদুর রহমান বলেন, নিবন্ধন আছে এমন অটোরিকশার কাছ থেকে ১৫০ টাকা ও নিবন্ধন নেই এমন অটোরিকশার কাছ থেকে ২৫০ টাকা করে নেওয়া হয়। এই টাকা সংগঠনের কাজেই ব্যয় হয়। বছর শেষে থাকা অবশিষ্ট টাকা মালিকদের মাঝে বিতরণ করে দেওয়া হয়। নিবন্ধনহীন অটোরিকশা থেকে একশ টাকা অতিরিক্ত আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, সংগঠনের কার্যকরী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই টাকা নেওয়া হয়। এর বাইরে কিছু বলা যাবে না।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সুনামগঞ্জ অফিসের মোটর যান পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম রাসেল বলেন, জেলায় প্রায় পাঁচ থেকে সাত হাজার নিবন্ধনহীন তিন চাকার সিএনজিচালিত গাড়ি সড়কে চলছে। নিবন্ধনহীন গাড়ির বিরুদ্ধে সড়কে টানা ১৫ দিন ধরে অভিযান পরিচালনা করছেন তাঁরা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রঞ্জন কুমার দাস বললেন, এরকম অভিযোগ সত্য নয়। পুলিশ প্রতিদিনই নিবন্ধনহীন অটোরিকশা আটক করছে। এরপরেও বিষয়টি খোঁজ নেবো। সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×