শিক্ষকের পিটুনিতে ৩ দিন ধরে অচেতন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র
×
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০১৯ | ১৬:২৯ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসানকে বেদম মারধরের অভিযোগ উঠেছে সহকারী প্রধান শিক্ষক বদরুল আলমের বিরুদ্ধে। মারধরে রাকিব অচেতন হয়ে পড়ে। গত রোববারের এ ঘটনার পর থেকে ছেলেটির জ্ঞান না ফেরায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মঙ্গলবার ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। প্রথমে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখান থেকে ফেরত পাঠানো হয়। সন্ধ্যায় সেখান থেকে নেওয়া হয় ধানমণ্ডির পপুলার হাসপাতালে। ওই হাসপাতালে তার চিকিৎসা চললেও রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ছেলেটির জ্ঞান ফেরেনি।ওই ছাত্রের পরিবার ও সহপাঠীরা জানায়, রাকিবুল গত রোববার সকালে কোচিং ক্লাস করতে স্কুলে যায়। ক্লাস চলাকালে সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলায় শিক্ষক বদরুল আলম তাকে মারধর করে বেঞ্চের নিচে মাথা দিয়ে রাখেন। এতে অচেতন হয়ে পড়ে সে। সহপাঠীরা তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে জ্ঞান না ফেরায় তাকে নোয়াখালীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দু`দিন থাকার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গতকাল তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। বর্তমানে ধানমণ্ডির পপুলার হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা এখনও শঙ্কামুক্ত নয়।এদিকে, এ ঘটনার বিচার চেয়ে রাকিবুল হাসানের মা রাবেয়া বেগম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও রামগতি উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেছেন। এছাড়া স্কুলের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি দাবি করে বিক্ষোভ করেছে।অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক বদরুল আলম জানান, তিনি মারধর করেননি। রাকিবুলের পিঠে আস্তে করে থাপ্পড় দিয়ে বেঞ্চের নিচে মাথা দিয়ে রেখেছিলেন। তার খরচেই ছেলেটিকে চিকিৎসা করানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, শিক্ষার্থীকে মারধরের বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। মঙ্গলবার সকালে অভিযোগ পেয়েছি। বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।