সিলেটে ‘বঞ্চিত’ নারী কাউন্সিলররা আন্দোলনে নামছেন

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২০     আপডেট: ০৬ মে ২০২০   

সিলেট ব্যুরো

সিলেটে করোনা পরিস্থিতিতে নগরীর অসহায়-হতদরিদ্রদের সহায়তায় সরকারের ত্রাণ বিতরণে তাদের কোন সম্পৃক্ততা না থাকায় অবশেষে আন্দোলনে নামছেন নারী জনপ্রতিনিধিরা।

বৃহস্পতিবার নগর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ৯ জন নারী কাউন্সিলর। বেলা ১২টায় প্রতিবাদী এই কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানান সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও নারী কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট রোকসানা বেগম শাহনাজ। 

কাউন্সিলর রোকসানা বেগম বলেন, করোনার এই দুর্যোগকালীন সময়ে শুরু থেকেই ত্রাণ কার্যক্রমে আমাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। সিসিকের তহবিলে সরকার, বিত্তবানরা টাকা দিয়েছেন, খাদ্যসামগ্রী দিয়েছেন। প্রত্যেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর কয়েক হাজার প্যাকেট করে ত্রাণ পেয়েছেন বিতরণের জন্য। কিন্তু আমরা নারী কাউন্সিলররা বিতরণের জন্য এক প্যাকেট ত্রাণও পাইনি। তিনি হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, মানুষ আমাদের কাছে ত্রাণের জন্য আসে। কিন্তু আমরা তাদেরকে ত্রাণ দিতে পারি না। এই দুঃসময়ে যদি মানুষের পাশে দাঁড়াতে না পারি, তবে কাউন্সিলর হয়ে কী লাভ?

সিলেট নগরীতে করোনা পরিস্থিতিতে ত্রাণ বিতরণ নিয়ে সাধারণ কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ রয়েছে। সরকারি বরাদ্দ বিতরণের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগও রয়েছে। একাধিক কাউন্সিলের বাসা ঘেরাও থেকে ত্রাণের দাবিতে রাজপথে আন্দোলনেও নামতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। 

গত ৪ মে সমকাল-এ ‘সিলেটে ত্রাণ বিতরণ প্রশ্নবিদ্ধ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেই সংবাদে ত্রাণ বিতরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন সাবেক প্যানেল মেয়র ও আরেক নারী কাউন্সিলর শাহানারা বেগম।

নগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তাকবির ইসলাম পিন্টুর বিরুদ্ধে প্রথমে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ করেছিলেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর রোকসানা বেগম শাহনাজ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাধারণ কাউন্সিলরদের মাঝে চতুর্থ দফার বরাদ্দ দেওয়ার সময় মেয়র লিখিতভাবে নারী কাউন্সিলরদের ৫০ প্যাকেট দেওয়ার অনুরোধ করলেও সবাই তা মানেননি। সাবেক প্যানেল মেয়র ও সংরক্ষিত ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহানারা বেগম বলেন, দেশের মানুষের চরম এই দুর্দিনে প্রধানমন্ত্রী অসহায়-দরিদ্রদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের জন্য চাল বরাদ্দ দিয়েছেন। কিন্তু এ কাজে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।  

করোনার সংকটময় সময়ে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর নগরবাসীর সহায়তায় প্রথমে ‘খাদ্য ফান্ড’ গঠন করেছিলেন। সেই ফান্ডে সরকারের পাশাপাশি নগরীর বিত্তবান ও ব্যবসায়ীরা নগদ টাকা ও খাদ্যসামগ্রী দিয়েছিলেন। এক দফা নগরীর প্রায় ৭০ হাজার পরিবারকে চাল, ডাল, তেল, লবন, সাবান দেওয়ার পর খাদ্য ফান্ডের কার্যক্রমকে যায়। বর্তমানে সরকারের বরাদ্দকৃত চালেই চলছে সিসিকের ত্রাণ কার্যক্রম। ডাকঢোল পিটিয়ে শুরু করা খাদ্য ফান্ডের কর্মসূচি নিয়ে হতাশার পর বর্তমান ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে সিসিকের কাউন্সিলরদের মধ্যেই অসন্তোষ রয়েছে।  

এ প্র্রসঙ্গে কাউন্সিলর  রোকসানা বেগম বলেন, আমরা বাধ্য হয়ে অবস্থান কর্মসূচি দিয়েছি। এরপর অবস্থা বুঝে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ সহায়তার অংশ হিসেবে নগরীর ৪০ হাজার মানুষকে রমজানে উপহার দেবেন। এ সংক্রান্ত সভায়ও আমাদের বলা হয়নি। এখন শুনছি, নগরীর ২৭ ওয়ার্ডের প্রত্যেক সাধারণ কাউন্সিলর তাদের ওয়ার্ডের জন্য এক হাজার করে বরাদ্দ পাবেন। বাকি ১৩ হাজার থাকবে মেয়রের অধীনে। মেয়রের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করে তিনি বলেন, এখানেও তিনি নারী কাউন্সিলরদের বঞ্চিত করছেন।

এ ব্যাপারে বুধবার রাতে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন ধরেননি।