র্যাগিং ও স্বাক্ষর জালিয়াতি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯ শিক্ষার্থী এক বছরের জন্য বহিষ্কার
ফাইল ছবি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:৩৬
জুনিয়র শিক্ষার্থীদের র্যাগিং, বিভাগের সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতি ও সিনিয়র শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ১৯ শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া র্যাগিংয়ের অভিযোগে বিভিন্ন বিভাগের আরও ৮০ শিক্ষার্থীকে কঠোর সতর্কতামূলক চিঠি দেওয়া এবং তাদের পরিবারকে জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ৫৪৯তম সভায় ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজ বুধবার বিকেলে সিন্ডিকেটের অন্তত তিনজন সদস্য ও শৃঙ্খলা কমিটির একজন সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডিসিপ্লিনারি বোর্ড সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১০ মে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরুর পর প্রক্টর দপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে ১৭-১৮টি বিভাগ থেকে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের র্যাগিংয়ের অভিযোগ আসে। এর মধ্যে ১০টি অভিযোগ তদন্ত করে ডিসিপ্লিনারি বোর্ড। তদন্ত শেষে ১৫ শিক্ষার্থীকে দুই সেমিস্টারের (এক বছর) জন্য বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া গ্রাফিক ডিজাইন ডিসিপ্লিনের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাওনকে (সিনিয়র) মারধরের অভিযোগে এক জুনিয়র শিক্ষার্থীকে একই মেয়াদের শাস্তির সুপারিশ করা হয়।
অন্যদিকে, লোকপ্রশাসন বিভাগের সভাপতির স্বাক্ষর নকলের (জালিয়াতি) অভিযোগে তিন শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য বহিষ্কারের সুপারিশ করে ডিসিপ্লিনারি বোর্ড। এ ছাড়া এই ১৯ শিক্ষার্থীর আবাসিকতা বাতিল এবং ভবিষ্যতে তাদের আবাসিকতার জন্য অযোগ্য ঘোষণা করার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি র্যাগিংয়ে জড়িত আরও ৮০ শিক্ষার্থীকে সতর্কতামূলক চিঠি দেওয়া এবং তাদের পরিবারকে অবহিত করার সুপারিশ করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সিন্ডিকেট সদস্য বলেন, ‘ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সুপারিশগুলো সিন্ডিকেট সভায় এজেন্ডা আকারে উপস্থাপন করা হয়। পরে সুপারিশ অনুযায়ী সেগুলো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয় সিন্ডিকেট। অভিযোগের মাত্রা কম থাকায় ৮০ শিক্ষার্থীকে সতর্কতামূলক চিঠি দেওয়া এবং তাদের পরিবারকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিন্ডিকেটের আরও এক সদস্য সমকালকে বলেন, ‘র্যাগিংয়ের অভিযোগগুলো তদন্ত করেছে ডিসিপ্লিনারি বোর্ড। তাদের দেওয়া সুপারিশ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখানে শুধু যেসব শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদেরই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে তিনজন এবং সিনিয়র শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে আরও একজন শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।’
ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সদস্যসচিব ও প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান সমকালকে বলেন, ‘আমরা প্রায় ১৭-১৮টি বিভাগ থেকে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের র্যাগিংয়ের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণ ও গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে, তাদের এক বছরের জন্য বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযোগের মাত্রা অনুযায়ী ৮০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের পরিবারকেও জানানোর সুপারিশ করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে এসেছেন। তাদের পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ফলে র্যাগিংয়ের নামে পরিবেশ বিনষ্ট করতে দেওয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে আমাদের শক্ত অবস্থান থাকবে।’
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘আমরা অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতে শক্ত ও লঘু—উভয় ধরনের শাস্তি দিয়েছি। ফলে আমাদের দুর্বল ভাবার কোনো কারণ নেই। দীর্ঘদিন ধরে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিং চলছে। বর্তমানে আমরা এর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে আছি। আমাদের আরও কিছু অভিযোগের তদন্ত চলমান আছে।’
- বিষয় :
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
- বহিষ্কার