কোটালীপাড়ায় ছাত্রীদের অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে শিক্ষক বহিষ্কার

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২০     আপডেট: ৩০ জুন ২০২০   

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত ও অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে কোটালীপাড়া এস এন ইনস্টিটিউশন স্কুলের এক শিক্ষককে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। 

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কোটালীপাড়া এস এন ইনস্টিটিউশন স্কুলে ৮ বছর আগে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান মিলন হোসেন । নিয়োগের পর থেকেই তিনি ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত ও অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ছাত্রীদের অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে এর আগে তার বিরুদ্ধে স্কুলে কয়েকবার বিচার বসে। সর্বশেষ গত বুধবার কলেজ পড়ুয়া ওই বিদ্যালয়ের এক সাবেক ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন তিনি। বিষয়টি ওই ছাত্রী তার অভিভাবকদের জানান। ছাত্রীর অভিভাবক ঘটনাটি বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আতিকুজ্জামান বাদলকে জানান। আতিকুজ্জামান বাদল বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের জরুরি সভা ডেকে শিক্ষক মিলন হোসেনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেন।

কোটালীপাড়া এস এন ইনস্টিটিউশন স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আতিকুজ্জামান বাদল বলেন, মিলন হোসেন মেধাবী শিক্ষক হওয়ার কারণে এতোদিন তাকে বিদ্যালয়ে রেখেছি। তাকে সংশোধনের সুযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি সংশোধন হননি। তাই তাকে আমরা সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে যদি তিনি দোষী প্রমাণিত হন তাহলে আমরা চূড়ান্ত সিন্ধান্ত নেবো। 

তদন্ত কমিটির প্রধান ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য রতন মিত্র বলেন, তদন্তে প্রাথমিকভাবে শিক্ষক মিলনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। 

অভিযোগকারী ছাত্রীর অভিভাবক বলেন, আমার মেয়েকে শিক্ষক মিলন দীর্ঘ দিন ধরে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছেন। বিষয়টি আমি মৌখিকভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিকে জানিয়েছি। শিক্ষকের কাছ থেকে ছাত্রছাত্রীরা নীতি-নৈতিকতার জ্ঞান অর্জন করে। সেই শিক্ষকই যদি ছাত্রীদের অনৈতিক প্রস্তাব দেয় তাহলে আমরা এসব শিক্ষকদের কাছ থেকে ভালো কী আশা করতে পারি। 

কোটালীপাড়া এস এন ইনস্টিটিউশন স্কুল থেকে এ বছর এসএসসি পাস করা এক ছাত্রী বলেন, নির্বাচনী পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার কথা বলে মিলন স্যার আমাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আমি বিষয়টি তখন কয়েকজন শিক্ষককে জানিয়েছিলাম। শিক্ষকরা মানসম্মানের দিকে তাকিয়ে আমাকে চেপে যেতে বলেছিলেন। 

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, মিলন হোসেন ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে শিক্ষকসুলভ কোনো আচরণ করেন না। তার বিষয়ে আমার আর বেশি কিছু বলার নেই। 

অভিভাবক সদস্য পারভীন বেগম বলেন, মিলন হোসেন যদি এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে থাকেন তাহলে অনেক অভিভাবকই তাদের মেয়েদের এই বিদ্যালয়ে পড়ানো বন্ধ করে দেবেন।  

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মিলন হোসেন বলেন, ভালো শিক্ষক হিসেবে এলাকায় তার সুনাম রয়েছে। তাই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

কোটালীপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক অফিসার মাহবুবুর রহমান বলেন, এ ধরনের খারাপ লোক বিদ্যালয়ে রাখা ঠিক না। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ থেকে যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে তার প্রতিবেদন পাওয়ার পরে আমরা মিলন হোসেনের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবো।