হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাও ইউনিয়নের চাটপাড়া গ্রামের পার্শ্ববর্তী যোগি টিলা এলাকা থেকে অজ্ঞাত নামা (২৫) এক তরুণী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করা হয়েছে। এ ঘটনায় চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাও ইউনিয়নের পাচারগাও গ্রামের মো. আফসার মিয়া ওরফে কাওছার আহমেদ ও তার স্ত্রী রিপা বেগমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা ওই তরুণী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে বুধবার দুপুরে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। পরে তাদেরকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে বিকেলে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিং করা হয়। 

এসময় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, গত ৭ ফেব্রুয়ারি চুনারুঘাট উপজেলার যোগীর আসন টিলা থেকে অজ্ঞাত এক তরুণীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিচয় শনাক্তসহ ঘটনা তদন্তে নামে পুলিশের একটি চৌকশ টিম। দীর্ঘ তদন্ত শেষে এ হত্যাকাণ্ডে বেড়িয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। উদঘাটন করা হয়েছে নিহত তরুণীর পরিচয়। নিহত তরুণী রোকশানা আক্তার মিষ্টি নোয়াখালী জেলার চাটখিল থানার কামালপুর গ্রামের মৃত খোরশেদ আলী মজুমদারের মেয়ে। 

পুলিশ সুপার বলেন, নিহত মিষ্টি মৌলভী বাজার শহরে একটি বেসরকারি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করত। হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক মাস আগে ঘটনাচক্রে আসামি রিপার সঙ্গে ভিকটিমের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে বাসা ভাড়া নিয়ে কথবার্তা হয়। এক পর্যায়ে রিপা মিষ্টিকে তাদের বাসায় সাবলেট হিসেবে থাকার প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি হয় মিষ্টি। পরে মিষ্টি মৌলভীবাজার শহরের দূর্গা মহল্লার রিপার ভাড়া বাসায় উঠে। এক পর্যায়ে মিষ্টির সঙ্গে পরিচয় রিপার স্বামী কাওছারের। পরে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। যা গড়ায় দৈহিক সম্পর্কে। বিষয়টি আচ করতে পেরে রিপা তার স্বামীর সাথে ঝগড়া করে তার বাবার বাড়ি শহরতলীর ধুলিয়াখাল এলাকায় চলে আসে। এর একদিন পর কাওছার তার স্ত্রীকে অনুরোধ করে তাদের বাসায় যেতে বলে। এসময় রিপা মিষ্টিকে তার জীবন থেকে না সরালে যাবে বলে জানায়। এক পর্যায়ে দু’জন পরিকল্পনা করে মিষ্টিকে চুনারুঘাট নিয়ে আসে এবং পরিকল্পা অনুযায়ী রাতের আধারে যোগী টিলায় নিয়ে যায়। সেখানে কাওছার আবারো তাকে ধর্ষণ করে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে তারা রিপার মৃত্যু নিশ্চিত করে মৌলভীবাজার চলে যায়। 

পুলিশ সুপার আরো বলেন, ঘাতক স্বামী-স্ত্রীকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। আরো কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।