ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভ্যাসলিন মাখিয়ে রুমাল দিয়ে ঘষে আঙুলের ছাপ মেলানো হচ্ছে

ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচন

ভ্যাসলিন মাখিয়ে রুমাল দিয়ে ঘষে আঙুলের ছাপ মেলানো হচ্ছে
×

ভ্যাসলিন দিয়ে আঙুল পরিষ্কার করা হচ্ছে এক ভোটারের। ছবি-সমকাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৪ | ১৩:৩৬ | আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২৪ | ১৩:৪৩

ময়মনসিংহ বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নগরীর ১০, ১১ ও ১২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা ভোট দেন। এ কেন্দ্রের মোট ভোটার ২৮৬২ জন। বেলা ১২টা পর্যন্ত এ কেন্দ্রে ভোট পড়ে ৫৬৫টি৷ যা মোট ভোটের ১৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ভোট গ্রহণে ধীরগতি চলছে এ কেন্দ্রটিতে। কারণ আঙুলের ছাপ মেলাতে গিয়ে কেন্দ্রটির একটি ভোট কক্ষের ইভিএম বিকল হয়ে পড়ে। পরে সেটি দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে সারিয়ে তোলা হয়। বুথটি বন্ধ ছিল প্রায় ১৫ মিনিট। যাদের আঙ্গুলের ছাপ মিলছে না তাদের আঙুলে ভ্যাসলিন মাখিয়ে রুমাল দিয়ে ঘষে প্রথমে চেষ্টা করা হচ্ছে। তাতেও কাজ না হলর সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে লেবু দিয়ে আঙুল ঘষে আসতে বলা হচ্ছে।

সকাল ৮টার কিছু সময় পর গ্লোরী মন্ডল নামে এক বয়স্ক নারী ভোট দিতে পারেন নি। নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে আঙুলের ছাপ দিতে গিয়ে দেখেন নিজের নামের সঙ্গে ছবি ও স্বামীর নামের অমিল। বিষয়টি প্রিজাইডিং অফিসার পর্যন্ত গড়ায়। পরে কোনো ভাবেই বৃদ্ধার ভোট গ্রহণ করতে না পারায় ফিরে যেতে হয় তাকে। ভোট দিতে না পেরে ওই ভোটার বলেন, আগে ভোট দিয়েছি এমন সমস্যা হয়নি। ইভিএমে ভোট দিতে এসেই এমন ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। 

ভোট দিতে আসা রুনু দত্ত বলেন, আঙুলের ছাপ উঠতে না চাইলে হাতে ভ্যাসলিন মাখিয়ে টিস্যু ও রুমাল দিয়ে মুছে ছাপ মেলানো হয়। 

ভোট কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে কথা হয় নগরীর সরদা ঘোষ রোডের বাসিন্দা চমেলী নন্দীর সঙ্গে। তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনে ভোটার কম থাকলেও আজকে ভোটার অনেক বেশি। 

নগরীর পিয়নপাড়ার বাসিন্দা শিল্পী বকসি বলেন, আমাদের ভোট দিতে কোনো সমস্যা হয়নি। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের ভোটে মানুষের যেমন আগ্রহ দেখেছি এখন তেমন নেই। আগে যে দীর্ঘ লাইন হতো ও মানুষের উৎসাহ দেখা যেতো দিনদিন তা কমে এসেছে।

সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার মোহাম্মদ আবদুর রশিদ বলেন, নতুন ভোটারদের ভোট দিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। কিন্তু বয়স্ক ভোটারদের আঙ্গুলের ছাপ না মেলায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। ভ্যাসলিন মাখিয়ে রুমাল দিয়ে আঙুল ঘষে ছাপ মেলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমার বুথে আঙুলের ছাপ না মেলায় একজন ভোট দিতে পারেননি। 

কেন্দ্রটির প্রিজাইডিং অফিসার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বয়স্ক ভোটারদের ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। একজনকে ৫-৬ বার চেষ্টা করায় সময় বেশি লাগছে। অনেকবার চেষ্টা করেও আঙুলের ছাপের সঙ্গে ছবি ও স্বামীর নাম মেলেনি এক নারীর। সেই কারণে তিনি ভোট দিতে পারেনি। আঙুলের ছাপের সমস্যাটি কম হলেও এটি বেশ ভোগাচ্ছে। সব বুথে ভ্যাসলিন, রুমাল ও টিস্যু রাখা হয়েছে। আঙুল পরিষ্কার করে ছাপ মেলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ভোটার হওয়ার সময় আঙুলের ছাপ বিভিন্ন ভাবে দেওয়ায় ভোট দিতে এসে সেই ভাবে ছাপ দিতে পারছে না অনেকে।

আরও পড়ুন

×