ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

উদ্বোধনের এক বছরেও ঘর পাননি উপকারভোগীরা

উদ্বোধনের এক বছরেও ঘর পাননি উপকারভোগীরা

জগন্নাথপুরের রানীগঞ্জ গুচ্ছগ্রামে মাটি ভরাটের কাজ হয়নি এক বছরেও সমকাল

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৪ | ২২:৩৮

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের চতুর্থ পর্যায়ে ২১২টি ঘর উদ্বোধনের এক বছর পেরিয়ে গেলেও শতাধিক উপকারভোগী ঘর পাননি। কেউ কেউ ঘর বরাদ্দ পেলেও আশ্রয়ণ প্রকল্পে বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে বসবাসে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২২ মার্চ উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের বাদে খালীশা ও কলকলিয়া মৌজায় ৬৪টি, চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নে রসুলপুর মৌজায় ৩৮টি, রানীগঞ্জ ইউনিয়নে ২৫টি এবং পাইলগাঁও ইউনিয়নের খানপুর ও জালালপুর মৌজায় ৮৫টি ঘরের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে প্রকল্পের ঘর তৈরি ছাড়াই ওই দিন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন দেখানো হয়। চতুর্থ পর্যায়ের ২১২টি ঘরের মধ্যে শতাধিক ঘরের কাজ এখনও চলমান রয়েছে।
এদিকে বিশুদ্ধ পানি ও বিদ্যুতের সুবিধা না থাকায় অনেকেই পরিবার নিয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে উঠছেন না। এ বিষয়ে অসুবিধার কথা জানিয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি উপজেলার রানীগঞ্জ আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা জগন্নাথপুরের ইউএনওর কাছে একটি লিখিত আবেদন দিয়েছেন।

ওই আবেদনে বলা হয়, এক বছর পর ঘর পেলেও আশ্রয়ণ প্রকল্পে এখনও বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা হয়নি। প্রকল্পের কিছু অংশে মাটি ভরাটের কাজও বাকি রয়েছে। এতে আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের মানবেতর দিন কাটাতে হচ্ছে।
রানীগঞ্জ আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকারভোগীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারাদেশে প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের চতুর্থ পর্যায়ে এ উপজেলার ২১২টি ঘরের মধ্যে রানীগঞ্জে ২৫টি ঘর তৈরি করা হয়। এক বছর
আগে ঘর তৈরি না করেই প্রকল্পের উদ্বোধন দেখানো হয়। মাসখানেক আগে মৌখিকভাবে ২৫ পরিবারের মধ্যে ঘরগুলো হস্তান্তর করা হলেও তাদের জমির দলিল দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে মিনতি রানী সরকার নামে এক উপকারভোগী বলেন, ২০ দিন আগে আশ্রয়ণের ঘরে উঠেছেন। এখানে তাঁকে কষ্ট করে বসবাস করতে হচ্ছে। পানির ব্যবস্থা না থাকায় অন্যের বাড়ি থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়।  
জয়নাল মিয়া বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘরের বরাদ্দ পেলেও বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা না থাকায় অনেক পরিবার এখানে আসছে না। ফলে ঘরগুলো খালি পড়ে আছে। খাওয়ার পানি আর বিদ্যুৎ যদি না থাকে, ঘর দিয়ে কী হবে?

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন ভুঞা  জানান, রানীগঞ্জ প্রকল্পে ঘর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। বিদ্যুতের প্রধান লাইনের খুঁটি বসানো হয়েছে। এখন বাসিন্দার নিজ খরচে ঘরের মধ্যে সংযোগ নিতে হবে। পানি সরবরাহের বিষয়টি তাদের এখতিয়ারে নেই, এটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের কাজ।
ইউএনও আল-বশিরুল ইসলাম বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের চতুর্থ ধাপের সব ঘরের কাজ প্রায় শেষ। কয়েকটি ঘরে রঙের কাজ চলছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের সব বিষয়ে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×