‘২৫ বছরে এমনটা হয়নি’
আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৩ | ১৮:০০
২৫ বছর ধরে আলফাডাঙ্গা সদর বাজারে জুতা সেলাই-পলিশের কাজ করছেন তিনি। বছরে দুই ঈদে কাজ থাকে বেশি। দৈনিক ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা আয়। অথচ এ বছর খদ্দেরের আশায় পথ চেয়ে থাকতে হচ্ছে। দিনে আয় হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। গত ২৫ বছরে এমনটা হয়নি।
সংকর দাশের বসতবাড়ির জমি ছাড়া কোনো ফসলি জমি নেই। এ ব্যবসার ওপর ভর করে চলে সাত সদস্যের পরিবার। গতকাল শনিবার কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি জানান, ঈদের আগে অনেক আশায় ছিলেন– প্রতিদিন ভালো আয় হবে। কিন্তু সকাল ১১টা বেজে গেছে, তখন পর্যন্ত মাত্র ৫০-৬০ টাকা আয় হয়েছে।
আলফাডাঙ্গা বাজারসহ উপজেলার অন্যান্য বাজারে যুগ যুগ ধরে এসব মুচি জুতা সেলাই-পলিশের কাজ করছেন। তাঁদের বসবাস বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের শেখপুর গ্রামের ঋষিপাড়ায়।
জুতা সেলাই-পলিশের পাশাপাশি তাঁরা বাঁশ দিয়ে হাতপাখা, কুলা-চালনসহ সংসারের প্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী তৈরি করে থাকেন। এসব পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসে থাকলেও ঈদের বাজারে বেচাবিক্রি তেমন নেই। আলফাডাঙ্গা বাজার বণিক সমিতির আহ্বায়ক পাদুকা ব্যবসায়ী নজির মিয়া বলেন, ঋষিদের হাতে কাজ একটু কম। তবে আশা করি, তাঁদের খদ্দের আবার আগের মতো বাড়বে।
৮ নম্বর শেখর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ জানান, পরিষদের পক্ষ থেকে ঈদের সময় সব মুচিকে চাল দেওয়া হবে। এ ছাড়া পূজার সময় তাঁদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল হক জানান, তাঁদের জন্য আলাদা করে সহযোগিতা করার সুযোগ নেই। তাঁরা যে ইউনিয়নের বাসিন্দা, সেই ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সহযোগিতা পাবেন।
- বিষয় :
- ফরিদপুর
- আলফাডাঙ্গা