চট্টগ্রামে দোকান থেকে তুলে নিয়ে মুক্তিপণ দাবি, গ্রেপ্তার ৪
.
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৫ | ১৮:০৯
চট্টগ্রামে লন্ড্রি দোকানিসহ তিনজনকে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে নগরের পাঁচলাইশ থানার পূর্ব নাসিরাবাদ পলিটেকনিক্যাল মোড়ের শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের পেছনে বাগান থেকে জিম্মিদের উদ্ধার ও আসামীদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার চারজন হলেন- বাছির আহম্মদ রানা (২৭), মো. জিহাদ (২৪), মো. আরিফ (২৪) ও মো. ইমন ওরফে সাদ্দাম (২৩)। গ্রেপ্তার আসামিরা পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সাফুল ইসলাম ওরফে বার্মা সাইফুলের অনুসারী। আসামিদের কাছ থেকে পাঁচটি মোটরসাইকেল ও বারোটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন- সমীর দাশ (৪৫), কেশব মিত্র দাশ (৪৩) ও রুবেল রুদ্র (৪২)। এদের মধ্যে সমীর দাশ ও রুবেল রুদ্র লন্ড্রি দোকানি। কেশব মিত্র একটি মন্দিরের পুরোহিত।
পুলিশ জানায়, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রুবেল রুদ্রকে ও দুপুর দেড়টার দিকে সমীর দাশকে নগরের হিলভিউ আবাসিকের নিজ নিজ লন্ড্রি দোকান থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। বিকেল পাঁচটার দিকে হিলভিউ আবাসিকের ২ নম্বর রোডের মাথা থেকে কেশব মিত্র দাশকেও অপহরণ করে নিয়ে যায় তারা সন্ত্রাসীরা। তাদের হিলভিউ আবাসিকের এক নম্বর রোডের একটি নির্মাণাধীন ভবনে চতুর্থতলায় জিম্মি করে মারধর করে। তাদের পরিবারের কাছে নয় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। খবর পেয়ে পুলিশ ভবনটিতে অভিযানে নামে। পুলিশ আসার খবর পেয়ে তাদের সেখান থেকে সটকে পড়েন তারা। পরে নগরের পলিটেকনিক্যাল মোড়ের শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের পেছনে বাগান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। অপহৃতদের উদ্ধার করে পুলিশ।
নগর পুলিশের উপ কমিশনার (অপরাধ) রইছ উদ্দিন বলেন, ‘গ্রেপ্তার চারজনই তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী বার্মা সাইফুলের সহযোগী। সাইফুলকে এখনও আটক করতে পারিনি। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এছাড়া গ্রেপ্তার আসিফের বিরুদ্ধে নগরের বিভিন্ন থানায় দশটি, রানার বিরুদ্ধে আটটি মামলা রয়েছে। জিহাদ ও আরিফের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে। মামলাগুলো বেশিরভাগই চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি এবং চাঁদাবাজির। গ্রেপ্তার আসামিরা পেশাদার অপরাধী। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।’