ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জোনায়েদ সাকি প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় আনন্দের বন্যা

জোনায়েদ সাকি প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় আনন্দের বন্যা
×

জোনায়েদ সাকি

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৪১ | আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৪১

| প্রিন্ট সংস্করণ

জীবনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। গতকাল মঙ্গলবার অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে জোট করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে মাথাল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জোনায়েদ সাকি। নির্বাচন করতে গিয়ে এলাকায় নানা বিরোধিতার মুখে পড়েন। শেষ পর্যন্ত এলাকার মানুষের মন জয় করে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন তিনি। বিএনপির কোন্দল মিটিয়ে সবাইকে এক করে নিজের পক্ষে কাজ করিয়েছেন। তিনি নির্বাচিত হলে মন্ত্রী হবেন এবং এলাকার উন্নয়ন হবে এই আশা নিয়েই মানুষ ভোট দিয়েছেন তাঁকে। তাদের সেই আশা পূর্ণ হয়েছে বলে মনে করেন এলাকার মানুষ। তিনি মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাওয়ায় বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মানুষের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে।
জোনায়েদ সাকি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় তাৎক্ষণিক আনন্দ উদ্‌যাপন করে উপজেলা সদরে মিষ্টি বিতরণ করেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হারুন রশিদ ও পৌর যুবদলের সদস্য সচিব ফয়সাল বিন ইউসুফ।

পৌর যুবদলের সদস্য সচিব ফয়সাল বিন ইউসুফ বলেন, জোনায়েদ সাকির মতো যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় আমরা আনন্দিত। তাঁর মাধ্যমে বাঞ্ছারামপুরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে প্রত্যাশা তাদের।

জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকির জন্ম ১৯৭৩ সালের ৯ ডিসেম্বর। তিনি গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি ছাত্র আন্দোলন, শ্রমিক আন্দোলন, জাতীয় সম্পদ রক্ষা, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্র সংস্কারের আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। জোনায়েদ সাকি জন্মগ্রহণ করেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলার চরলহনিয়া গ্রামে। তাঁর বাবা প্রয়াত ফজলুর রহমান এবং মা মাসুদা খানম। ১৯৯১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই তিনি সক্রিয়ভাবে ছাত্র রাজনীতি ও সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল তাঁর। আন্দোলনপরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনে সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্বমূলক ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন সাকি।

জোনায়েদ সাকির নেতৃত্বে ১৯৯৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বেতন ফি বৃদ্ধিবিরোধী আন্দোলন, ১৯৯৯ সালে যৌন নিপীড়নবিরোধী আন্দোলন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলন এবং জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলন সংগঠিত হয়। ২০০০ সালে ছাত্র ফেডারেশনের ষষ্ঠ কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে তিনি ছাত্র রাজনীতি থেকে বিদায় নেন। শ্রমিক ও সামাজিক আন্দোলন থেকে উঠে আসা কর্মীদের নিয়ে ২০০২ সালের ২৯ আগস্ট গণসংহতি আন্দোলন প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেন জোনায়েদ সাকি। ২০১৬ সালের ৪ ও ৫ নভেম্বর বিশেষ সাংগঠনিক সম্মেলনে গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

আরও পড়ুন

×