পাইলিং যন্ত্রের আঘাতে গ্যাস সঞ্চালন লাইনে ফাটল
ছবি- সংগৃহীত
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬ | ০৪:২৪
তিতাস গ্যাস লাইনের ১০ ইঞ্চি পাইপে ছিদ্র হওয়ায় এলেঙ্গা থেকে টাঙ্গাইলে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে অপর ২০ ইঞ্চি লাইন দিয়ে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে এলেঙ্গা ফ্লাইওভারের আন্ডারপাস নির্মাণকাজ করার সময় গ্যাস লাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে এলেঙ্গা থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেন কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যমুনা সেতু-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চার লেন প্রকল্পের অংশ হিসেবে আন্ডারপাস নির্মাণের জন্য ভারী যন্ত্র দিয়ে গভীর পাইলিং করা হচ্ছিল। এ সময় মাটির নিচে থাকা গ্যাস সঞ্চালন লাইনের ১০ ইঞ্চি পাইপে পাইলিং যন্ত্রের আঘাত লাগে। এতে গ্যাস লাইনের ১০ ইঞ্চি পাইপ বিকট শব্দে ফেটে যায়। এলেঙ্গা স্ট্যান্ডজুড়ে গ্যাসের তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। বন্ধ হয়ে যায় যানবাহন চলাচল। প্রায় এক ঘণ্টা উত্তরবঙ্গগামী লেন ও ঢাকা দুই লেন বন্ধ থাকায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী।
টাঙ্গাইলের তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সহকারী প্রকৌশলী রমজান আলী বলেন, ১০ ইঞ্চি পাইপে ছিদ্র হওয়ায় এলেঙ্গা থেকে টাঙ্গাইল গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে অপর ২০ ইঞ্চি লাইন দিয়ে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পাইপ লাইনটি টাঙ্গাইলের প্রধান গ্যাস সঞ্চালন লাইনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। তাই তাৎক্ষণিকভাবে গ্যাস সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এলেঙ্গা থেকে শুধু ছয়টি সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। অন্য সব জায়গায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।
টাঙ্গাইলের তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী বিধান চন্দ্র মৈত্র জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাইন বন্ধ করে দেন তারা। পাইলিংয়ের সময় নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কিনা খতিয়ে দেখা হবে। গাজীপুর থেকে বিশেষজ্ঞ দল এসে মেরামত কাজ শুরু করেছেন। রাতের মধ্যেই কাজ শেষ করে লাইনে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা যাবে বলে আশা তাঁর।
টাঙ্গাইল ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) হারুন অর রশিদ বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে আন্ডারপাসের পাইলিংয়ের কাজ চলার সময় বিকট শব্দে গ্যাসের পাইপ ফেটে যায়। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঝুঁকি এড়াতে মহাসড়কের দুই পাশেই যানবাহন বন্ধ করে দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ ওই লাইনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করলে পরিস্থিতি স্বভাবিক হয়। পরে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। ঘটনাস্থলের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।