ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাছ উধাওয়ের ঘটনায় প্রশ্নের মুখে বন বিভাগ

গাছ উধাওয়ের ঘটনায় প্রশ্নের মুখে বন বিভাগ
×

কমলগঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে কেটে নেওয়া সেগুন গাছের গোড়া সমকাল

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান থেকে সাবাড় হচ্ছে বিশালাকৃতির সেগুন গাছ। পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও সমৃদ্ধ এই বনাঞ্চলের গাছ উধাও হওয়া নিয়ে জেগেছে নানা প্রশ্ন। দেশের অন্যতম প্রধান এই জীববৈচিত্র্য রক্ষাগার থেকে একের পর এক মূল্যবান গাছ উধাও হওয়ায় উদ্যানের সামগ্রিক পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সম্প্রতি উদ্যানের গভীর অরণ্য ও পরিধি এলাকা থেকে বিশালাকৃতির বেশ কয়েকটি সেগুন গাছ কেটে নিয়ে গেছে সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র। সোমবার ভোরে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের জানকিছড়া এলাকায় শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়কের পাশ থেকে বিশালাকৃতির একটি সেগুন গাছ কেটে নিয়ে যায় চক্রটি। স্থানীয়রা বলছেন, বন বিভাগের কড়া নজরদারি ও টহল জোরদার থাকার কথা। সে ক্ষেত্রে এত বড় আকৃতির গাছ কীভাবে পাচার হলো, এর কোনো উত্তর মিলছে না।

পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এটি শুধু বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদাসীনতা বা দায়িত্বে অবহেলা নয়। গাছ পাচারকারী চক্রের সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের ও বিট কর্মকর্তাদের অসৎ সমঝোতারই ফল এটি। নিয়মিত টহল থাকা সত্ত্বেও দিনের পর দিন এমন অপকর্ম ঘটে যাওয়া কেবল উদাসীনতা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না।
বন্যপ্রাণী রক্ষায় নিয়োজিত কর্মীদের একাংশের ভাষ্য, লাউয়াছড়া শুধু একটি বন নয়। এটি বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকসহ বহু দুর্লভ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর শেষ আশ্রয়স্থল। যেভাবে প্রকাশ্যে সেগুন ও অন্যান্য দেশীয় বৃক্ষ সাবাড় হচ্ছে, তাতে বন বিভাগকে সরাসরি জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তাদের মতে, প্রশাসনিক গাফিলতি ও গোপন সমঝোতার কারণেই বছরের পর বছর লাউয়াছড়ার জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

গাছ পাচারের অভিযোগ বিষয়ে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি চোরাকারবারিদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগসাজশের বিষয় অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, পর্যাপ্ত জনবলের অভাব এবং উদ্যানের বিশাল আয়তনের সুযোগ নিয়ে মাঝে মাঝে দুষ্কৃতকারীরা রাতের আঁধারে গাছ কাটার অপচেষ্টা চালায়। বন বিভাগ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং গাছ কাটার আলামত পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ মামলা দায়ের করা হচ্ছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলার এজাহারে প্রায় সময়ই অজ্ঞাতনামা আসামিদের অন্তর্ভুক্ত করায় মূল চোরাকারবারিরা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।
এ বিষয়ে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. আবুল কালাম বলেন, গাছ পাচারে কারা জড়িত, তা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে বন বিভাগের কেউ জড়িত থাকার সত্যতা মিললে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×