ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাস্টমস কর্মকর্তাদের অভিযান ঘিরে রহস্য

কাস্টমস কর্মকর্তাদের অভিযান ঘিরে রহস্য
×

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাস্টমস কর্মকর্তাদের অভিযান নিয়ে রহস্য দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার দুপুরে পৌর শহরের টিনপট্টি এলাকায় অবস্থিত জেআই ইমপ্রেক্স লিমিটেডে এই অভিযান চালানো হয়। এতে নেতৃত্ব দেন ঢাকা পূর্বাঞ্চলীয় কাস্টমস অ্যান্ড এক্সাইজের যুগ্ম কমিশনার রাবেয়া খাতুন। তারা নথিপত্র ও কম্পিউটার জব্দ করে নিয়ে যান। তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেআই ইমপ্রেক্স লিমিটেডে বিভিন্ন সিমেন্ট কোম্পানির ডিলারশিপ রয়েছে। এর স্বত্বাধিকারী দুলাল চন্দ্র সাহা। অভিযানের সংবাদ পেয়ে গত মঙ্গলবার দুপুরে প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে দেখা যায়, মালিক পক্ষের দেওয়া মিষ্টি খাচ্ছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। তারা সাংবাদিক দেখে তাড়াহুড়ো শুরু করেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানটিতে কী কী অসংগতি বা অনিয়ম পেয়েছেন জানতে চাইলে সরাসরি উত্তর দেননি যুগ্ম কমিশনার রাবেয়া খাতুন। তিনি অভিযান শেষে তথ্য দেওয়ার আশ্বাস দেন।

এদিকে অভিযানের শেষ পর্যায়ে কাস্টমস কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের নানা নথিপত্র ও কম্পিউটারসহ কিছু পণ্য জব্দ করে গাড়িতে তুলতে থাকেন। তাদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো কর্মকর্তা কথা না বলে তড়িঘড়ি করে গাড়িতে উঠে চলে যান। এমন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভৈরবজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা দেখা দেয়।
এ ঘটনার রহস্য উন্মোচনের আহ্বান জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল হক জয়। এতে তিনি লিখেন, ‘ভৈরবে আজকে কাস্টমস অভিযানের নামে জেআই ইমপ্রেক্সে যে নাটক হয়েছে, এর ভেতরের তথ্য অবশ্যই ভৈরবের সাংবাদিকরা খুঁজে বের করবেন– এই অনুরোধ রইল।’
সেখানে সমাজকর্মী সামিউজ্জামান সুমন লিখেন, ‘এটা খুবই অন্যায়। তারা অফিসে বসে অডিট বা কর ফাঁকি কার্যক্রম করতে পারত। বর্তমান সময়ে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে, তাঁর ওপর ভ্যাট কর্মকর্তাদের অযাচিত হস্তক্ষেপ কাম্য নয়।’

তৌসিফ ইয়াকুব লিখেন, ‘অবশ্যই ঘুষ পেয়েছে, এই জন্য সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথাবার্তা না বলে তাড়াহুড়ো করে চলে যাচ্ছে। আবার তারা নাকি মিষ্টিমুখও করেছে অভিযান চলাকালীন! বিষয়টি আসলেও রহস্যময়।’ আব্দুর লতিফ লিখেছেন, ‘কাস্টমসের লোক, ওরা ঘুষে নাম্বার ওয়ান।’
জেআই ইমপ্রেক্সের মালিক পক্ষের প্রতিনিধি শুভ জয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘কাস্টমস অ্যান্ড এক্সাইজের লোকজন আমাদের যেভাবে এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখে ফেলেছে, এতে ব্যবসার অনেক ক্ষতি হয়েছে। এভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানে এসে অভিযান পরিচালনা করা হয় না।’ কিন্তু ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তিনিও বলতে চাননি।
বক্তব্যের জন্য গতকাল বুধবার দুপুরে ভৈরব সার্কেল রাজস্ব কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে রাজস্ব কর্মকর্তা জোবায়েল খানকে পাওয়া যায়। তিনি বলেন, হেডকোয়ার্টার থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় সিনিয়র অফিসাররা অভিযান পরিচালনা করেছেন। রাজস্ব-সংক্রান্ত বিষয় যাচাই-বাছাই করে রাজস্ব ফাঁকির বিষয় থাকলে ভ্যাট আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব সিনিয়র কর্মকর্তার দ্রুত সটকে পড়া ও বক্তব্য না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্যার কেন কথা বলেননি, এটা উনার ব্যক্তিগত বিষয়।’

আরও পড়ুন

×