রঙিন স্কুল ব্যাগে চরের শিশুদের আনন্দ
সুহৃদ সমাবেশের উদ্যোগে সারিয়াকান্দিতে শিশুদের মাঝে স্কুল ব্যাগ বিতরণ সমকাল
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:০৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
যমুনা নদীর কূলঘেঁষা সারিয়াকান্দির হাটশেরপুর বাঁধ। সেখানে উন্মুক্ত স্থানে বসে শিশুরা পড়াশোনা করে। দারিদ্র্যের কারণে তাদের কোনো ব্যাগ ছিল না। চরের এই পথ পেরিয়ে স্কুলে যেতে রোদ ও বৃষ্টিতে শিক্ষার্থীদের বইপত্র প্রায়ই ভিজে নষ্ট হতো।
হাটশেরপুর ইউনিয়নের চকরথিনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসব শিশুর কষ্টের কথা বিবেচনা করে এগিয়ে এসেছে সমকাল সুহৃদ সমাবেশ বগুড়া জেলা শাখা। ‘অনার বাংলাদেশ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহায়তায় মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা হাতে পায় কাঙ্ক্ষিত রঙিন স্কুল ব্যাগ।
এই টিমে ছিলেন সুহৃদ সমাবেশ বগুড়া জেলার উপদেষ্টা লিমন বাসার, সমকালের বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত ব্যুরোপ্রধান এস এম কাওসার, সমকাল সুহৃদ সমাবেশ জেলা সভাপতি আবু মোত্তালেব মানিক, সহসভাপতি শেখর রায়, সাধারণ সম্পাদক আসলাম হোসাইন, সাংবাদিক শাহনেওয়াজ ইসলাম শাওন, সুহৃদ মিজু আহম্মেদ, রফিকুল ইসলাম, তামিম, আব্দুর রউফ প্রমুখ। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক আমিনুল ইসলাম, আলমগীর কবির, বিজলী আক্তার, তানজিয়া সুলতানা ও নুর আলম।
শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে নদী পার হয়ে চরের এই প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছান সুহৃদ সমাবেশের সদস্যরা। দীর্ঘদিনের চাওয়া নতুন ব্যাগ হাতে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠে শিশুরা।
চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী শিলা আক্তার খুশিতে মেতে উঠে জানায়, বাবার কাছে অনেক দিন ধরে চাওয়া ব্যাগটি আজ হাতে পেয়ে সে ভীষণ আনন্দিত। অন্য শিক্ষার্থীরাও একই রকম আবেগে ভেসে যায়। ব্যাগের পাশাপাশি তাদের মাঝে পুষ্টিকর খাবার বিতরণ করা হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জিন্নাহ আলম এই উদ্যোগের প্রশংসা করে জানান, প্রজনন ও পড়ালেখার এই কঠিন সময়ে ব্যাগের সুবিধা পাওয়ায় শিশুদের বইগুলো এখন থেকে বৃষ্টি ও ধুলোবালি থেকে রক্ষা পাবে। সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলামও জানান, বাঁধের ওপর থেকে সরিয়ে একটু দূরে একটি স্থায়ী ভবন নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত নেওয়া হচ্ছে। প্রতিকূলতার মাঝেও একঝাঁক শিশুর মুখে হাসি ফোটানো এই মানবিক প্রয়াস চরের শিক্ষার আলো টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত শতবর্ষী এই বিদ্যাপীঠটি চরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া শিশুদের জন্য শিক্ষার এক অনন্য বাতিঘর। কিন্তু যমুনার তাণ্ডবে এ পর্যন্ত ছয় ছয়বার বিলীন হয়েছে এর মূল স্থাপনা। প্রতিবার নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়ে ভাঙার পর নতুন করে গড়ে তোলা হয়েছে বিদ্যার এই আঙিনা। সর্বশেষ গত ১৭ মে বিদ্যালয়টি নদীতে তলিয়ে গেলে বাধ্য হয়ে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে হাটশেরপুর বাঁধের ওপর খোলা আকাশের নিচে পাঠদান শুরু করেন। রোদ, ধুলোবালি আর প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও বিদ্যালয়টির ৭৩ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখায় কিন্তু পিছিয়ে নেই। বার্ষিক পরীক্ষায় প্রতিবছরই তারা বেশ ভালো ফলাফল উপহার দিয়ে থাকে। কিন্তু চরের দরিদ্র পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক সামর্থ্য এতই কম যে, সন্তানদের একটি সাধারণ পোশাক বা স্কুল ব্যাগ কিনে দেওয়ার ক্ষমতা তাদের অধিকাংশের নেই।
- বিষয় :
- শিশুদের স্কুল