রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই
টাঙ্গাইলের বাসাইল
টাঙ্গাইলের বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর একটি সেতুর ফুটপাতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই চলছে সমকাল
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
টাঙ্গাইলের বাসাইলে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতে রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ঠিকাদার অভিযোগ অস্বীকার করলেও উপজেলা প্রকৌশল অফিস বলছে, কাজটি নিয়মের মধ্যে হয়নি। যেসব জায়গায় নিম্নমানের কাজ হয়েছে, তা ভেঙে আবার নতুন করে করা হবে।
বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। গত রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। বিষয়টি জানতে পেরে গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন ও উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ৬ মিটার দৈর্ঘের পিএসসি গার্ডার সেতুটির নির্মাণকাজ পায় ইউনুছ আল মামুন-জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেবি) নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে। শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। পরে কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমানে ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
গত রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ শুরু করেন। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে বাধা দেন। একপর্যায়ে কাজটি বন্ধ করা হয়। এ সময় স্থানীয়রা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন। স্থানীয়রা চলে যাওয়ার পর আবার শুরু করে রাতের মধ্যে তারা কাজটি শেষ করেন। স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা প্রশাসন গতকাল পরিদর্শনে যায়।
স্ল্যাবগুলো ভেঙে পুনরায় রড দিয়ে ঢালাইয়ের দাবি জানান স্থানীয়রা। সেই সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শাস্তিরও দাবি জানান। তারা জানান, সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকে তারা নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে আসছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘সেতুর রেলিংয়ের পাশে ফুটপাতের স্ল্যাবে ৪ ইঞ্চি ঢালাই রয়েছে। স্ল্যাবের নিচে একটা শাটারিং করতে হয়। ওই শাটারিংটি আর সেখান থেকে সরানো যাবে না। এটি এমনিতে নষ্ট হয়ে যাবে। এটি করতে হয় বাঁশ অথবা কাঠ দিয়ে। রডের খাঁচা ও পলিথিন দিয়ে এটির ওপর ঢালাই করা হয়। আমরা যখন বাঁশ দিয়ে শাটারিং করছি, এলাকার কিছু লোক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল করেছে।’
উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমাদের না জানিয়ে রাতে ঢালাইয়ের কাজ করেছে। তারা ফুটপাতের স্ল্যাবের ঢালাই করেছে। এটির নিয়ম হচ্ছে, অন্য একটি জায়গায় সুন্দরভাবে ঢালাই করে তারপর ফুটপাতের জায়গায় স্ল্যাব বসিয়ে দিতে হয়। তারা তা না করে সরাসরি বাঁশ ও কাঠ দিয়ে শাটারিং করে তার ওপর সামান্য কিছু রড দিয়ে ঢালাই করেছেন। এটি নিয়মের মধ্যে হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেসব জায়গায় নিম্নমানের কাজ হয়েছে, সেগুলো ভেঙে ফেলা হচ্ছে। দ্রুতই কাজগুলো আবার করা হবে। এ ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, রডের পরিবর্তে বাঁশ দেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে সেতুটি পরিদর্শন করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- সেতু