বাধা অমান্য করে ঘর নির্মাণ ওয়ার্ড বিএনপি নেতার
মধ্যনগরের মহিষখলা বাজারে নির্মিত ব্যবসায়ীদের ঘরের কাঠামো। মঙ্গলবার তোলা সমকাল
ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৪৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় সরকারি জায়গা দখল করে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী সপ্তাহখানেক ধরে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের মহিষখলা বাজারে এই ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এ কাজে সংশ্লিষ্ট পর্যায় থেকে কোনো ধরনের অনুমতি নেওয়া হয়নি। বিএনপি নেতা হোসেন মিয়া নিজে একজন কাপড় ব্যবসায়ী।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘর নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার জন্য জড়িতদের নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযুক্তরা প্রশাসনের চোখ এড়াতে দিনের বেলায় কাজ বন্ধ রেখে রাতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ঘর নির্মাণ করার জন্য বাজারের ইজারাদার ও ওই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মুক্তার হোসেনের অনুমতিও নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন জামাল মিয়া নামে এক ব্যবসায়ী। পরে মুক্তার হোসেনও ঘর নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা দেন।
স্থানীয় পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই ইউনিয়নের কালিপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হোসেন মিয়া, একই গ্রামের লাল মিয়া, হোসেনপুর গ্রামের জামাল মিয়া, সাউদপাড়া গ্রামের নাসির মিয়া, বান্দ্রা গ্রামের সুজন মিয়া এবং রংপুর গ্রামের ওয়াসিম মিয়া মহিষখলা মধ্যবাজারে একটি সরকারি জায়গায় ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ঘর নির্মাণকাজ শুরু করেন। পরে ১৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় একজন সংবাদকর্মী বিষয়টি ইউএনওকে জানান। পরে ইউএনওর নির্দেশে জড়িতদের কাজ করতে নিষেধ করা হয়। নিষেধাজ্ঞার পর অভিযুক্তরা তাদের কৌশল পাল্টান। তারা দিনে কাজ বাদ দিয়ে রাতের বেলায় কাজ শুরু করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে আবারও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এরপরেও অভিযুক্তরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের বেলায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের অফিস সহায়ক লিটন মিয়া বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মতে, ঘরের কাজ বন্ধ রাখার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের নিষেধ করেছেন। পরে জানতে পারেন রাতের বেলায় কাজ হয় এবং গত শুক্রবার রাতে স্থানীয় বাজারের পাহারাদারের ফোনের মাধ্যমে জামাল মিয়া নামে একজনকে (অভিযুক্ত) কাজ বন্ধ রাখতে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কথা জানান।
অভিযুক্ত জামাল মিয়া বলেন, ৪০ বছর ধরে তিনি বাজারে ব্যবসা করছেন। স্থায়ী স্থাপনা নয়; চালি ঘর নষ্ট হওয়ায় তা মেরামত করছেন। বাজারের ইজারাদার মুক্তারের অনুমতি নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। তিনজনের (লাল মিয়া, হোসেন মিয়া ও নাসির মিয়া) কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদের বেলায় বাধা নেই কিন্তু তাঁর বেলায় বাধা কেন বুঝতে পারছেন না।
অভিযুক্ত ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হোসেন মিয়া বলেন, বাজারে তাঁর ৮ হাত জায়গা আছে। তারা রাতে কাজ করতে যাননি, কাজ বাদ দিয়েছেন। সরকারি জায়গা সরকারি জায়গাতে থাকুক। কীভাবে ৮ হাত জায়গার মালিক হলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে হোসেন মিয়া বলেন, ব্যবসার সুবাদে যার যার দখল অনুযায়ী এমনটি দাবি করা হচ্ছে। মহিষখলা বাজারের ইজারাদার ও বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মুক্তার হোসেন বলেন, নির্মাণকাজের জন্য কেউ তাঁর অনুমতি নেয়নি। তাদের (ব্যবসায়ী) বিরুদ্ধে প্রশাসনিক চাপ আসায় নিজেদের বাঁচাতে তাঁর নাম বলা হচ্ছে। রাতে নির্মাণকাজ চলার বিষয়টি পাহারাদার তাঁকে জানিয়েছেন। আগে এখানে চালি ঘর ছিল। ওপরের টিন-কাঠ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আগে যেভাবে ছিল সেভাবে ঘর তোলা হচ্ছে। বাজারের ইজারাদার হিসেবে তাদের নিষেধ করেছেন তিনি।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জনি রায় বলেন, ঘর নির্মাণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
- বিষয় :
- বিএনপি