ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিরাজগঞ্জে ত্রাণের ৮০ বস্তা চাল উধাও, আত্মগোপনে প্যানেল চেয়ারম্যান 

সিরাজগঞ্জে ত্রাণের ৮০ বস্তা চাল উধাও, আত্মগোপনে প্যানেল চেয়ারম্যান 
×

ছবি-সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:৪৯

সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে বন্যা ও যমুনার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থদের জন্য বরাদ্দ করা ৬০০ বস্তা সরকারি চালের মধ্যে ৮০ বস্তার হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। উপজেলার বাগুটিয়া ইউনিয়নে বিতরণের জন্য রাখা চালের মধ্যে ৫২০ বস্তা জব্দ করে সিলগালা করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

সরকারি চালের ঘাটতি পাওয়ার পরও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক মামলা না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নমনীয়তার কারণেই বিষয়টি নিয়ে ধীরগতিতে কাজ চলছে।

সরেজমিনে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বাগুটিয়া ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত দুস্থদের জনপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল বিতরণের কথা ছিল। বিতরণের আগে বরাদ্দের তুলনায় চালের বস্তা কম থাকায় সুবিধাভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

খবর পেয়ে ওই রাতেই উপজেলা প্রশাসন বিনানই পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে ৫২০ বস্তা চাল জব্দ করে। পরে কক্ষটি সিলগালা করা হয়। তবে প্রশাসনের অভিযানের আগেই প্যানেল চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান আত্মগোপনে চলে যান বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

ইউনিয়ন পরিষদের সচিব অপূর্ব সরকার বলেন, চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদের কাউকে না জানিয়ে গোপনে বিদ্যালয়ের কক্ষে চাল মজুত করেছিলেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, শুধু বাগুটিয়া ইউনিয়ন নয়, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে বরাদ্দ করা চালের একটি অংশ কালোবাজারে পাচার করা হয়েছে। 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘চাল তোলার প্রক্রিয়া চলমান থাকায় হয়তো কিছু বাকি ছিল; কালোবাজারে বিক্রির সুযোগ নেই।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, চেয়ারম্যানের লোকজন জানিয়েছেন, চাল দুস্থদের জন্যই রাখা আছে। তাই তাৎক্ষণিক মামলা করা হয়নি।

চলতি অর্থবছরে চৌহালী উপজেলার সাত ইউনিয়নে ১ হাজার ৯৩৩ জন ক্ষতিগ্রস্তের জন্য প্রায় ৫৮ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিটি ইউনিয়নের বরাদ্দ ও বিতরণের হিসাব যাচাই করা প্রয়োজন।

সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (সার্বিক) প্রধান করে তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে চাল আত্মসাতের প্রমাণ মিললে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না; কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে প্যানেল চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। মোবাইলে পাঠানো মেসেজেরও জবাব দেননি তিনি।

আরও পড়ুন

×