ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টেকনাফে মালয়েশিয়া পাচারের প্রস্তুতিকালে ১৭ জন উদ্ধার

টেকনাফে মালয়েশিয়া পাচারের প্রস্তুতিকালে ১৭ জন উদ্ধার
×

ছবি: সংগৃহীত

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৫:২১

কক্সবাজারের টেকনাফে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে একটি বাড়িতে আটকে রাখা ১৭ জনকে উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫ (এসআরবি-১৫)। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার দক্ষিণ লম্বরী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।

গতকাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এসআরবি-১৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক।

এসআরবি-১৫-এর সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প) জানায়, গোপন তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় তারা জানতে পারে, মানবপাচারকারী একটি চক্র বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে কয়েকজনকে দক্ষিণ লম্বরী এলাকার মো. ইব্রাহীমের বাড়িতে জড়ো করেছে। পরে সন্ধ্যায় সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানকারী দলের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারী চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ১৭ জন পুরুষকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের একজন মো. করিম বলেন, ‘পাঁচ দিন আগে আমি মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য সাইফুল নামের এক ব্যক্তির কাছে যাই। সেদিনই নৌপথে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা ছিল। তবে আমাকে ও অন্যদের কয়েক দফা হাতবদল করা হয়। পরে আমাদের একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নিজের ইচ্ছায় মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য টেকনাফে সাইফুলের কাছে এসেছিলাম। কিন্তু পরে আমাদের আটকে রাখা হয়। কোনো উপায় না পেয়ে আমি সেখান থেকে পালিয়ে আসি।’ 

এসআরবি-১৫ জানায়, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বাড়ি কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার বিভিন্ন উপজেলায়। তাদের মধ্যে বান্দরবানের লামা এলাকার মো. জাফর আলম, মো. নুরুল হুদা, মো. শাহিন শাহরিয়ার হৃদয়, মো. বেলাল, মো. রফিকুল ইসলাম ও মো. সাফায়েত হোসেন রয়েছেন। এ ছাড়া কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, রামু, সদর ও টেকনাফ এলাকার মো. মামুনুর রশিদ, মো. তাফসির, মো. আশরাফ হোসেন, মো. বাবুল, মো. আনসার উদ্দিন, মো. নুরুল আফসার, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. জোবায়ের ও মো. নুর মোস্তফাকে উদ্ধার করা হয়েছে।

এসআরবি-১৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক বলেন, লাভের আশায় সংঘবদ্ধ একটি চক্র এসব ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে ওই বাড়িতে জড়ো করেছিল। তাদের নৌপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের পরিকল্পনা ছিল। এ ঘটনায় জড়িত পলাতক ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার হওয়া ১৭ জনকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। 

আরও পড়ুন

×