ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিন্ডিকেট ভেঙে ফের নিলামে হাকালুকির বিল

সিন্ডিকেট ভেঙে ফের নিলামে হাকালুকির বিল
×

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা-সংলগ্ন হাকালুকি হাওরের এই অংশের বিল (বদ্ধ) সম্প্রতি ইজারা দেওয়া হয় সমকাল

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

একটি বিশেষ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে ঘিরে গড়ে ওঠা চক্র ভেঙে অবশেষে ফের নিলাম হচ্ছে হাকালুকির হাওরখাল। এতে করে সরকারের প্রায় অর্ধকোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার পাঁয়তারা রুখে দেয় স্থানীয় সচেতন মহল ও প্রশাসন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সচেতন মহলের প্রতিবাদের মুখে হাকালুকি হাওরের বৃহৎ জলমহাল গোটাউরা হাওরখাল (বদ্ধ) প্রশাসনের সিদ্ধান্তে প্রথম খোলা ডাকে ইজারা দেওয়া বন্ধ করায় সরকারের রাজস্ব আয় বেড়েছে ৪৮ লাখ টাকা।  

জানা যায়, গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নিলামে সরকারের রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠায় সচেতন মহলের মাঝে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। তখনই উপজেলা ও জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি ওই উন্মুক্ত নিলাম স্থগিত করে পুনঃনিলামের আয়োজন করে। বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বারের উন্মুক্ত পুনঃনিলামে জলমহালটি প্রায় ৪৮ লাখ টাকা বেশি দরে নিয়েছে একটি মৎস্যজীবী সমিতি।
জানা যায়, উচ্চ আদালতের মামলা জটিলতার কারণে হাকালুকি হাওরের সর্ববৃহৎ জলমহাল গোটাউরা হাওরখাল (বদ্ধ) বিলটি এক বছরের জন্য উন্মুক্ত নিলামের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার বড়লেখার হাকালুকি ইউনিয়ন ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে নিলাম কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। নিলামে ২২টি নিবন্ধিত মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি অংশগ্রহণ করে। কিন্তু অংশগ্রহণকারীদের গোপন সমঝোতার কারণে কাঙ্ক্ষিত দর ওঠেনি জলমহালটির। গত বছর প্রায় দুই কোটি টাকায় ইজারা গেলেও রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টাকারী সিন্ডিকেট এবার সর্বোচ্চ দর হাঁকে ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কিছু প্রভাবশালী ওই দরেই ইজারা প্রদানে প্রশাসনের উপস্থিত কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চালায়। এতে সরকারকে রাজস্ব বঞ্চিত করার তাগিদে গোপন আঁতাতের বিষয়টি জনসমক্ষে চলে আসে।
এক পর্যায়ে সচেতন মহলে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে এই ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে। তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনারসহ (ভূমি) সংশ্লিষ্টরা নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করেন। পরে উপজেলা ও জেলা জলমহাল কমিটির পরামর্শক্রমে বৃহস্পতিবার পুনরায় উন্মুক্ত নিলাম অনুষ্ঠিত হয়।

সচেতন মহলের সদস্যরা বলছেন, সিন্ডিকেট ভেঙে যাওয়ায় ৬৬টি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি ওই নিলামের ডাকে অংশগ্রহণ করে। এতে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা; ভ্যাট-আয়করসহ প্রায় ৯৮ লাখ টাকার কিছু বেশি দরে হাওরখালটি ইজারা নেন ভোলাকান্দি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির প্রতিনিধি ছায়াদ আহমদ। তাঁকেই চূড়ান্ত দরদাতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈমা নাদিয়া জানান, প্রথম দিনের উন্মুক্ত নিলামে দর ওঠে ৫০ লাখ ৫০ হাজার। তা কাঙ্ক্ষিত না হওয়ায় সরকারি স্বার্থ বিবেচনায় নিলাম স্থগিত করা হয়। পরে উপজেলা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত পুনঃনিলামে ৬৬টি মৎস্যজীবী সমিতি অংশগ্রহণ করে। এতে সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হয়েছে ভোলারকান্দি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি।

আরও পড়ুন

×