অস্ত্রোপচারে সন্তান জন্মের পর উদ্যোক্তার মৃত্যু
নাজিয়া রহমান মাইশা
বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৫০
| প্রিন্ট সংস্করণ
বরিশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্মের পর এক নারী উদ্যোক্তার মৃত্যু হয়েছে। স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, অ্যানেস্থেশিয়ার চিকিৎসকের ভুলে তিনি মারা যান। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, অস্ত্রোপচার চলাকালে শ্বাসনালিতে বমি আটকে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর বান্দ রোডের রাহাত-আনোয়ার হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কক্ষে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাঁকে শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত প্রসূতি নাজিয়া রহমান মাইশা (৩০) বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কালিজিরা এলাকার বাসিন্দা গণপূর্ত বিভাগের সাবেক কর্মচারী মৃত মো. নাজমুর রহমান বাদলের মেয়ে। বছরখানেক আগে হাফিজ আহমেদের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
স্বজনদের দেওয়া তথ্যমতে, গর্ভধারণের পর থেকে নাজিয়া রহমান মাইশা বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেজিস্ট্রার ডা. তহুরা আক্তারের বরিশাল নগরীর চেম্বারে নিয়মিত চিকিৎসা নিতেন। তাঁর পরামর্শেই অস্ত্রোপচারের জন্য রাহাত-আনোয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মাইশার স্বজন সাজ্জাদ হোসেন নয়ন বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে তাঁকে অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়া পর কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। এরপরই সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তাঁর অভিযোগ, অ্যানেস্থেশিয়ার দেওয়ার পরপরই মাইশা অসুস্থ হয়ে পড়েন ও বারবার বমি করেন। শরীরে দেওয়া স্যালাইন ‘ওভারফ্লো’ করে আস্তে আস্তে ফুসফুসে কফ জমে যায়। অস্ত্রোপচার শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মাইশা মারা যান। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে তাঁকে শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে নেওয়ার পরমর্শ দেন। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাইশাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সাজ্জাদ হোসেন নয়নের অভিযোগ, মাইশার অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়লে অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক ডা. সোহেল মিয়াকে একাধিকার ডাকা হলে মাইশার পাশে যাননি। তিনি হাসপাতালের অন্য অস্ত্রোপচার কক্ষের ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়েছিলেন।
মাইশার ফুফু শামসুন্নাহার বলেন, ‘অপারেশনের শেষ দিকে হঠাৎ আমাদের এসে বলা হয়, আপনারা আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকেন, পেশেন্ট কার্ডিয়াক অ্যাটাক করেছে। আমরা কোনো কিছু বুঝে উঠতে পারিনি।’
এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য ডা. তহুরা আক্তার ও ডা. সোহেল মিয়ার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে সংযোগ পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাইশার মৃত্যুর পরপরই তারা আত্মগোপনে চলে যান।
রাহাত-আনোয়ার হাসপাতালের ব্যবস্থাপক সাহিল আহমেদ সাকিবের ভাষ্য, রোগীর মৃত্যুর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা চিকিৎসকেরা দায়ী নন। বমি করার পর শ্বাসনালিতে খাবার আটকে রোগীর মৃত্যু হয়। তাঁর ভাষ্য, মাইশাকে গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসকরা স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করেন।
ব্যর্থ হওয়ায় ডা. তহুরা আক্তার অস্ত্রোপচার শুরু করেন। অস্ত্রোপচারের পর মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ ছিলেন। এরপর হঠাৎ মাইশার রক্তচাপ কমতে শুরু করে।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বলেন, তারা বিভিন্ন মাধ্যমে এ ঘটনার তথ্য পেয়েছেন। তবে থানায় কেউ অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে তদন্তের পর ব্যবস্থা নেবেন।
- বিষয় :
- মৃত্যু