লঞ্চ থেকে পড়ে নিখোঁজ রবিনের মরদেহ ২৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার
পরিবারের সঙ্গে রবিন
চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:৪৭ | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:৪১
২৬ ঘণ্টা পর চাঁদপুরের মতলব উত্তর এলাকার ষাটনল ঘাটে লঞ্চ থেকে মেঘনা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়া রবিনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধারকারী জাহাজ ‘রুস্তম’-এর ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে। আজ শনিবার বেলা পৌনে ৩টার দিকে ঘাটের পন্টুনের নিচ থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করেন ডুবুরিরা।
গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টার পর থেকেই চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিস, বিআইডব্লিউটিএ এবং নৌপুলিশ রবিনকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল।
নিহত রবিনের বাড়ি শরীয়তপুরে। তবে তিনি পরিবারসহ নারায়ণগঞ্জে বসবাস করতেন। মতলব উত্তর উপজেলার নবীপুর এলাকার নাসরিন আক্তারকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের এক কন্যাসন্তান রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সকাল ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ‘মকবুল-২’ নামের লঞ্চ থেকে ষাটনল ঘাটে নামার পর ফেলে আসা ব্যাগ আনতে ফের লঞ্চে ওঠেন রবিন। কিন্তু নামার মুহূর্তে চালক হঠাৎ লঞ্চটি পেছনে চালিয়ে দিলে লাফ দিতে গিয়ে তিনি মেঘনায় পড়ে তলিয়ে যান।
পুলিশ, লঞ্চের যাত্রী এবং স্থানীয়রা বলছেন, চালক তথা সুকানির অসাবধানতায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরপরই নৌপুলিশ লঞ্চটি জব্দসহ এর দুই স্টাফকে আটক করে। তারা হলেন—লঞ্চের সুকানি মনির হোসেন এবং গিজারম্যান সুমন।
মতলবের বেলতলী নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোজাম্মেল হক জানান, রবিনের স্ত্রী বাদী হয়ে আটক সুকানি ও গিজারম্যানকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ইতিমধ্যে আসামিদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘মকবুল-২’ লঞ্চটিও জব্দ রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, রবিনের মরদেহের ময়নাতদন্ত হবে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে স্বামীকে হারিয়ে নাসরিন আক্তার সন্তানসহ ঘটনার পর থেকে ষাটনল ঘাটেই অবস্থান করছিলেন। স্বামীকে জীবিত না পেলেও তার মরদেহটি পাওয়ার জন্য চিৎকার করে কাঁদছিলেন। নাসরিন জানান, কয়েক মাস আগে তার স্বামীর কোনো চাকরি ছিল না। পরে তিনি একটি গার্মেন্টসে চাকরি পান। গত বেশ কিছুদিন ধরেই নাসরিন তার বাবার বাড়িতে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন। এ দিন রবিন তাদের দেখতে লঞ্চযোগে আসছিলেন।
আহাজারি করতে করতে নাসরিন বলেন, ‘আমি এখন আমার মেয়েকে নিয়ে কোথায় যাব? আমার স্বামীই আমাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।’
- বিষয় :
- চাঁদপুর