ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক

যশোরে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র পাননি ১০৬ জন

যশোরে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র পাননি ১০৬ জন
×

ছবি: সমকাল

যশোর অফিস

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:২৪

যশোরে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র পাননি ১০৬ জন। শনিবার নিয়োগপত্র না পাওয়া ৮০-৯০ জন প্রার্থী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। 

নিয়োগপত্র না পাওয়াদের মধ্যে একজন মণিরামপুর উপজেলার মাহফুজুর রহমান। তিনি জানান, পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে সরকারি চাকরিতে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়ায় খুশি ছিলেন মা-বাবাসহ নিকটাত্মীয়রা। খুশিতে মসজিদে ঘোষণা দিয়ে এলাকায় মিষ্টিও বিতরণ করেছিলেন। কিন্তু অন্য প্রার্থীরা নিয়োগপত্র পেলেও তিনি পাননি। 

মাহফুজুর বলেন, ‘সরকারি চাকরি করার স্বপ্ন নিয়ে গ্রাম থেকে যশোরে এসেছিলাম। ৮ বছর ধরে ছাত্রাবাসে থেকে পড়াশোনা করছি। অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষা দিই। এর মধ্যে ২০২৫ সালে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছিলাম। নিয়োগপত্রের তালিকায় আমার নাম না পেয়ে জেলা অফিসে যোগাযোগ করি। তারা জানায়, গোয়েন্দা ভেরিফিকেশন রিপোর্টের ভিত্তিতে আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাহফুজুর আরও বলেন, ‘আমার চাকরি হওয়াতে মা-বাবা অনেক খুশি হয়েছিলেন। এলাকায় সবাই জানে আমার চাকরি হয়েছে। এখন যদি চাকরি না হয়, তাহলে কোন মুখ নিয়ে বাড়িতে যাব?’

গত বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হয়। যশোরে নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন ২৯০ জন। কিন্তু এর মধ্যে ১৮৪ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং গোয়েন্দা ভেরিফিকেশন রিপোর্টের ভিত্তিতে ১০৬ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। 

শনিবার ছুটির দিনেও সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় চত্বরে জড়ো হতে থাকেন তারা। কোনো কর্মকর্তার সাড়া না পেয়ে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চলে যান। 

হাবিবুর রহমান নামের সুপারিশপ্রাপ্ত এক প্রার্থী বলেন, ‘আমি অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছি। এখন ভেরিফিকেশনের কারণে নিয়োগ না পাওয়ায় আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা হতাশ। খবরটি শোনার পর মা কান্না করেছেন, বাবাও স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। আমাকে কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, সেটি স্পষ্টভাবে জানানো হোক।’

সাদ্দাম হোসেন নামের আরেক প্রার্থী বলেন, ‘‘সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর আবার কিসের ভেরিফিকেশন? এটা প্রহসন। আমাদের সঙ্গে জুলুম করা হয়েছে, আমাদের স্বপ্নকে কবর দেওয়া হয়েছে। ‘আওয়ামী লীগ না করলে চাকরি হবে না’—এমন নীতি ছিল গত সরকারের সময়। সেই পথে যদি এ সরকারও হাঁটে, তাহলে কিসের এত পরিবর্তন হলো?’’

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কিংবা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংশ্লিষ্ট কেউ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। 

তবে আজ দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি কর্মসূচিতে সরকারি সফরে আসেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ সময় তিনি সেখানে অবস্থানরত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের কথা শুনে সভাকক্ষে প্রবেশ করেন। সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী প্রার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা দ্রুতই আপনাদের সমস্যার সমাধান করবেন কিংবা বাদ দেওয়ার কারণ জানাবেন।’

উল্লেখ্য, নিয়োগপত্র পাওয়ার পর আগামী ১ অক্টোবর নিজ নিজ জেলা শিক্ষা কার্যালয়ে প্রার্থীদের যোগদান করার কথা রয়েছে। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর থেকে তাদের পদায়ন শুরু হওয়ার কথা।

আরও পড়ুন

×