ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ধানের বাজার মন্দা, আমনের উৎপাদন খরচই উঠছে না

ধানের বাজার মন্দা, আমনের উৎপাদন খরচই উঠছে না
×

 ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২১

| প্রিন্ট সংস্করণ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার মাঠে মাঠে আগাম জাতের আমন ধান কাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত কৃষক। ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু হাসি নেই কৃষকের মুখে। বিঘাপ্রতি ২-৩ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে তাদের। ফলে আমনের খরচ উঠানোর পাশাপাশি আগাম শীতকালীন সবজি চাষে বিনিয়োগ নিয়েও দুশ্চিন্তার ভাঁজ তাদের মুখে।
কাটা-মাড়াইয়ের পাশাপাশি লোকসান সত্ত্বেও ধান বিক্রি করে দিতে হচ্ছে অনেক কৃষককে। সংসারের নানা ব্যয় মেটানো এবং আমন চাষের জন্য নেওয়া ঋণ পরিশোধের চাপ থেকেই ধান ছেড়ে দিতে হচ্ছে তাদের। তারা বলছেন, সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিক, কাটা ও মাড়াইসহ সব উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। অন্যদিকে গত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রচুর চাল আমদানি করায় এখনও বাজার মন্দা। ফলে ধানের বর্তমান বাজারদরে উৎপাদন খরচই উঠছে না তাদের। 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৮ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগাম জাতের ১ হাজার ৬৫০ হেক্টর। এর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৪১৫ টন। আগাম জাতের ধান সাধারণত ৯০ থেকে ১১০ দিনে পাকে। এই উপজেলায় বেশির ভাগ জমিতে দুটি ফসল আবাদ হলেও কিছু জমিতে তিনটি ফসল ফলান কৃষকরা। ধান ঘরে তুলে ওই জমিতে আগাম আলু চাষ শুরু করেন। আলু তুলে সেই জমিতে ভুট্টা চাষ করেন। 
তারা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ২০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে। প্রতি বিঘায় ধানের ফলন হয়েছে ১৮ থেকে ২২ মণ। প্রতি মণ ধান প্রকারভেদে ৭৫০ থেকে ৯০০ টাকা দরে বিক্রি করে কৃষক পাচ্ছেন ১৭ থেকে ১৯ হাজার টাকা। ফলে উৎপাদন খরচই উঠছে না তাদের।

স্থানীয় বাজারে ধান বিক্রি করতে আসা আলাদীপুর ইউনিয়নের খড়মপুর গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেন জানান, তিন বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আউশ ধান চাষ করেছেন। এ জন্য সমিতি থেকে ঋণও নিতে হয়েছে। সব মিলিয়ে তিন বিঘা জমিতে চাষ করতে তাঁর প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ধানের দাম কমে যাওয়ায় ঋণ পরিশোধ ও সংসারের খরচ চালানো নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
শিবনগর ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামের চাষি হাফিজুর রহমান বলেন, ধান ঘরে তোলার পরপরই পারিবারিক খরচ, ঋণের টাকা পরিশোধসহ বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে হয়। তাই বাজারে ধানের দাম কম থাকলেও বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক ধান বিক্রি করে দিচ্ছেন। দাদপুর গ্রামের কৃষক বিদ্যুৎ রহমান বলেন, এবার ৩ বিঘা জমিতে আগাম আমন ধান চাষ করেছি। বিঘাপ্রতি ২০-২২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফলন হয়েছে ১৮-২০ মণ। বর্তমান বাজার দর ৭৫০ টাকা মণ হিসেবে দাম পাচ্ছি ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা। ফলে ধান বিক্রি করে লোকসান হচ্ছে।
ফুলবাড়ী বাজারের ধান আড়তদার লিটন প্রসাদ বলেন, বর্তমানে বাজারে ধানের দাম নিম্নমুখী। গত দেড় সপ্তাহে প্রতি মণ ধানের দামে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। আগাম জাতের হাইব্রিড ধান বাজারে ওঠার পর থেকেই দাম কমছে। 

উপজেলা চাউল কল মালিক সমিতির নেতা মঞ্জিল মোরশেদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি করা হয়। এ কারণে দেশে উৎপাদিত চালের চাহিদা কমে গেছে। চাল আমদানির এ প্রভাব আমনের ভরা মৌসুমেও থাকবে। আর সেটি হলে আমন মৌসুমেও কৃষকেরা ধানের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহানুর রহমান বলেন, ধানের বাজারদর কৃষি বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করে না, তাই কৃষকের লাভ-লোকসানের বিষয়ে আমাদের বলার কিছু নেই। তবে উৎপাদন ব্যয় কমাতে বিভিন্ন সময়ে কৃষকদের মাঝে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। 
 

আরও পড়ুন

×