ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কোটচাঁদপুরে ৬০ বছর ধরে টিকে আছে লাঠিখেলা

কোটচাঁদপুরে ৬০ বছর ধরে টিকে আছে লাঠিখেলা
×

ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা। ছবি: সমকাল

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:০০

সময় বদলেছে, বদলেছে গ্রামের জীবনযাপন। হারিয়ে গেছে গ্রাম বাংলার অনেক পুরোনো খেলাধুলা। তবে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে এখনো টিকে আছে লাঠিখেলার ঐতিহ্য। প্রায় ৬০ বছর ধরে সলেমানপুর উত্তরপাড়ার বাসিন্দারা আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে আয়োজন করে আসছেন এই খেলার। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও লাঠি, ঢোল আর কাঁসির তালে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন । পুরোনো এই ঐতিহ্য ধরে রেখে আগামী প্রজন্মের কাছেও খেলাটি পৌঁছে দিতে চান আয়োজকরা।

লাঠিয়াল লোকমান হোসেনের বয়স ৫৫ বছর। ছোটবেলা থেকেই বাপ-দাদাদের এই খেলা দেখে বড় হয়েছেন তিনি। এখন পুরোনো অনেক খেলোয়াড় নেই। তাদের উত্তরসূরি হিসেবে ঐতিহ্য ধরে রাখতে তিনিও নিয়মিত অংশ নেন লাঠিখেলায়।

লোকমান হোসেন বলেন, আমার বয়স এখন ৫৫ বছর। ছোটবেলা থেকে বাপ-দাদাদের এই খেলা খেলতে দেখে আসছি। এখন পুরোনো অনেক খেলোয়াড় মারা গেছেন। আমরা তাদের উত্তরসূরি। বাপ-দাদাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতেই আমরা খেলাটি করে আসছি। আমাদের আশা, সামনের দিনে আমাদের ছেলেরাও এই খেলা অব্যাহত রাখবে।

তিনি জানান, প্রতিবছর আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে কোটচাঁদপুরের সলেমানপুর উত্তরপাড়া থেকে লাঠিখেলা বের হয়। তিন দিন ধরে চলে এই আয়োজন। খেলায় থাকে বিভিন্ন ধরনের লাঠি, সঙ্গে থাকে ঢোল ও কাঁসি। উত্তরপাড়ার খোকা মণ্ডল ও রমজান দফাদার এই খেলার নেতৃত্ব দেন।

এবারের আয়োজনে ২৫ থেকে ৩০ জন অংশগ্রহণ করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইদ্রিস দফাদার, হান্নান দফাদার, মইদুল মুন্সি, শহিদুল মুন্সি ও লিয়াকত আলী।

খেলা শেষে আয়োজন করা হয় ছোট পরিসরের অনুষ্ঠান। এরপর সবাই মিলে খাওয়া-দাওয়া করে শেষ হয় আয়োজন। লাঠিখেলাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও তৈরি হয় উৎসবের আমেজ।

কোটচাঁদপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বিএনপির সভাপতি এসকেএম সালাহউদ্দিন বুলবুল সিডল বলেন, এটা আমাদের একটি ঐতিহ্যবাহী খেলা। মাঝে কিছুদিন খেলাটি দেখা যেত না। তেমন কেউ অনুশীলনও করত না। এ বছর আবার কোটচাঁদপুরের সলেমানপুর এলাকা থেকে খেলাটি শুরু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাপ-দাদার আমল থেকে খেলা চলে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় খেলা হয়ে থাকে। মূলত এসবের মধ্যে থাকলে মানুষের মধ্যে ভালো সম্পর্ক ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে ওঠে। আমি চাই, সামনের দিনগুলোতেও আয়োজকেরা এই খেলা অব্যাহত রাখবেন।

গ্রাম বাংলার অনেক ঐতিহ্যবাহী খেলা সময়ের সঙ্গে হারিয়ে গেলেও সলেমানপুর উত্তরপাড়ার লাঠিয়ালরা এখনো ধরে রেখেছেন পুরোনো এই সংস্কৃতি। তাদের হাত ধরে ৬০ বছরের লাঠিখেলার ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছেও টিকে থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা আয়োজকদের।

আরও পড়ুন

×