বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষ
চায়নিজ কুড়াল হাতে তেড়ে যান ছাত্রদল নেতা
সৈয়দ তাওকির
মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:১৮ | আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:২২
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে জলমহাল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দুই নেতার সমর্থকদের সংঘর্ষের সময় চায়নিজ কুড়াল হাতে তেড়ে যাচ্ছেন এক ছাত্রদল নেতা– এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই নেতার নাম সৈয়দ তাওকির। উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকা এই তরুণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাইদ আহমেদের ছেলে। তাঁর সমর্থকদের সঙ্গেই গত শুক্রবার দুপুরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহিনের লোকজন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিলমাকশা জলমহালের ভোগদখল নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছে সৈয়দ সাঈদ আহমদ ও এস এম শাহিনের অনুসারীদের মধ্যে। গত বছর তাদের মধ্যে একবার সংঘর্ষ হয়। শুক্রবার দুপুরে উভয় পক্ষের লোকজন পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের আখড়া বাজার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে অন্তত অর্ধশত ব্যক্তি আহত হন।
এ বিষয়ে দলের উপজেলা সভাপতি সৈয়দ সাইদ আহমেদকে কারণ দর্শানোর জন্য সাত দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর দিন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম এমপির সই করা নোটিশে বিষয়টির ব্যাখ্যা দিতে বলা হয় তাঁকে। এরই মধ্যে সৈয়দ সাইদ আহমেদের ছেলে সৈয়দ তাওকিরের অস্ত্র হাতে ভিডিও ভাইরাল হয়। এতে তাঁকে চায়নিজ কুড়াল হাতে সংঘর্ষে অংশ নিতে দেখা যায়।
স্থানীয় কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, বাবার প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন, মামলা বাণিজ্য ও মাদকের কারবারে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে সৈয়দ তাওকিরের বিরুদ্ধে। এমনকি তিনি অনলাইন জুয়ার এজেন্ট হিসেবেও কাজ করছেন– এমন তথ্যও দিয়েছেন অনেকে।
সৈয়দ তাওকির অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অস্ত্র হাতে নেওয়ার বিষয়ে তাঁর দাবি, সংঘর্ষ ঘটনা থামানোর জন্য আরেকজনের হাত থেকে চায়নিজ কুড়ালটি নিয়ে প্রতিপক্ষের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল মাহমুদ মোস্তাক মোবাইল ফোনে বলেন, ‘বিষয়টি সত্য, আমরা সবাই অবগত।’ তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তিতুমীর হোসেন সোহেলের ভাষ্য, সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি দেখে যাচাই-বাছাই করে সত্যতা পেয়েছেন। তিনি জেলা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের জানিয়েছেন। তারাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরিফুল ইসলাম নিশাদ সমকালকে বলেন, ‘অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ তাওকিরদের একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সে জড়িত কিনা বা তার হাতে চায়নিজ কুড়াল ছিল কিনা, এ বিষয়ে আমি এখনও অভিযোগ পাইনি।’ তাঁর ভাষ্য, ছাত্রদল কখনও সন্ত্রাসীদের নিয়ে রাজনীতি করে না। অভিযোগ পেলে সৈয়দ তাওকিরের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।