ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ড শুমারি

পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও নিয়োগ পেলেন মহিলা লীগ নেত্রী

পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও নিয়োগ পেলেন মহিলা লীগ নেত্রী
×

ফাইল ছবি

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:৪৫

খুলনার কয়রা উপজেলা ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য-সংগ্রহকারী পদে আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে বয়স বেশিজনিত কারণ দেখিয়ে শাহনাজ পারভীন ও নিগার সুলতানা নামে দুজনের আবেদন বাতিল করা হয়। পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত ফলাফলে তথ্য-সংগ্রহকারী হিসেবে নির্বাচিত তালিকায় আবার তাদের নাম দেখা যায়। এর মধ্যে ফলাফল শাটে শাহনাজ পারভীনের নাম হাতে লিখে দেওয়া হয়েছে। সমালোচনার মুখে নিগার সুলতানার নিয়োগ বাতিল করা হলেও শাহনাজ পারভীনের নাম বাদ দেওয়া হয়নি।

শাহনাজ পারভীন উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের দাউদ মল্লিকের মেয়ে। তিনি ইউনিয়ন মহিলা লীগের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর কয়রার সাতটি ইউনিয়নের ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জনবল নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ফলাফল প্রকাশের পর থেকে স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে উপজেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। 

নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ৮১ জন তথ্য-সংগ্রহকারী ও ৮ জন সুপারভাইজার নির্বাচিত করা হয়েছে। এর বিপরীতে ৯৪৯ জনের আবেদন জমা পড়ে। গত ৩০ জুলাই নিয়োগ কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে ৩৫৬ জনের আবেদন বাতিল করে। ২ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও দুপুর থেকে রাত তিনটা পর্যন্ত আবেদনকারীদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরবর্তী দুই দিনও সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতে পরীক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। এরপরেও ফলাফল প্রকাশ করতে দেড় মাস সময় নেওয়া হয়। এছাড়া ১৪ সেপ্টেম্বর কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর করা ফলাফল ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রকাশ করা হয়।

প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের ১১ জনের চূড়ান্ত তালিকার শেষে শাহনাজ পারভীনের নাম হাতে লিখে প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা শুরু হলে ইউনিয়ন মহিলা লীগের কমিটির তালিকা ঘেঁটে শাহনাজ পারভীনের নাম পাওয়া যায়। সেখানে তিনি ইউনিয়ন মহিলা লীগের যুগ্ম সম্পাদকের পদে রয়েছেন। এছাড়া তার বয়স নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহকারী পদে আবেদনের বয়স সীমা সর্বোচ্চ ৪০ বছর হলেও তিনি সেই বয়সসীমা অতিক্রম করেছেন। 

মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. ফেরদাউস জানান, ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী শাহনাজের বয়স ৪২ বছর। এছাড়া তিনি ইউনিয়ন মহিলা লীগের পদধারী নেত্রী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও তার পরিবার আওয়ামী লীগের শাসনামলে সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন।

ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, ইউনিয়নের একজন প্রভাবশালী বিএনপি নেতার সুপারিশে মহিলা লীগের ওই নেত্রী পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও নিয়োগ পেয়েছেন। 

জিয়াউল হক নামে একজন আবেদনকারীর অভিযোগ, তথ্য সংগ্রহকারী পদের জন্য পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকলেও তিনি নিয়োগ পাননি। পরীক্ষার জন্য শত শত পরীক্ষার্থীকে গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। অথচ অনেকেই পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও নিয়োগ পেয়েছেন। আবার নিয়োগ কমিটির অনেকের আত্মীয়-স্বজনও নিয়োগ পেয়েছেন। 

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিয়োগ কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘বয়স বেশি হওয়ায় ওই নারীকে (শাহনাজ পারভীন) যাচাই-বাছাইয়ের সময় বাদ দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে তিনি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি বলে জানি। অথচ চূড়ান্ত ফলাফলে তার নাম দেখে বিস্মিত হয়েছি।’ 

নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘শুরুতেই ওই নারীকে নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। পরবর্তীতে একজন প্রভাবশালী নেতার সুপারিশে তিনি নিয়োগ পেয়েছেন। এর বেশি কিছু বলতে চাই না। বিষয়টি নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় আছি।’

জানতে চাইলে কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়া শেষ করে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এরপরও কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতির অভিযোগ পেলে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×