ইবিতে শিক্ষার্থীকে বয়কট, মারধর ও টাকা দাবির অভিযোগ
র্যাগিংয়ে বাধা দেওয়ার জের
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:০২
কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) র্যাগিংয়ে বাধা দেওয়ার জেরে এক শিক্ষার্থীকে বয়কট, মারধর এবং তাঁর কাছে ২৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী তারিফ জামান রাজ লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় তিনি গত শনিবার প্রক্টর ও বিভাগীয় সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি তাঁর ব্যাচের আল-নাজিব মাহি, কাইয়ুম মোস্তফা, আব্দুল কাইয়ুম, মুজাহিদুল ইসলাম মিম, আবিদ বিন ইকরা, সায়েম হাফিজ সিয়াম, নবী হোসেন শুভ ও আব্দুল ফাত্তাহ আকিবের নাম উল্লেখ করেছেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, চলতি বছরের জুলাই মাসে তাদের ক্লাস শুরু হয়। তিনি ছিলেন শ্রেণি প্রতিনিধি। সে সময় ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে ক্লাসে আসতেন সিনিয়ররা। শ্রেণি প্রতিনিধি (সিআর) হিসেবে তিনি সিনিয়রদের বাধা দেন। এর পর থেকেই কয়েকজন সিনিয়র এবং ব্যাচমেট তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন। কিছুদিন পর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের জাহিদ মৃধাসহ কয়েকজন সিনিয়রের ইন্ধনে অভিযুক্তরা তাঁকে বিভাগ ও ব্যাচভিত্তিক বয়কট করে বিভিন্ন একাডেমিক গ্রুপ থেকে বের করে দেন। এ ছাড়া নির্বাচন ছাড়াই আল-নাজিব মাহিকে সিআর মনোনীত করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে বয়কট তুলে নিতে মাহিসহ অন্য অভিযুক্ত ব্যাচমেটরা তাঁর কাছে ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন এবং বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখান। টাকা না দেওয়ায় ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে নির্জন স্থানে তারা তাঁকে আটকে মারধর করেন। মাহি, আব্দুল কাইয়ুম ও কাইয়ুম মোস্তফা তাঁকে কিল-ঘুসি, লাথি ও চড়-থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ তাঁর।
জানতে চাইলে টাকা দাবির বিষয় মিথ্যা বলে দাবি করেন অভিযুক্তরা। এ ছাড়া মারধর ও অন্যান্য অভিযোগ বিষয়ে অভিযুক্ত আল-নাজিব মাহি বলেন, ‘রাজ পরিবার ও মা-বাবা তুলে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করায় বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। রাজই প্রথমে গায়ে হাত তোলেন। আর ক্লাসের শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে রাজকে বয়কট করে ভোটের মাধ্যমে আমাকে নতুন সিআর নির্বাচিত করে।’
আরেক অভিযুক্ত আব্দুল কাইয়ুম জানান, রাজ তাঁকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় পরদিন রাস্তায় দাঁড় করিয়ে কারণ জানতে চাইলে রাজ প্রথমে তাঁকে ধাক্কা দেন। এর জবাবে তিনি রাজের কলার চেপে ধরলে রাজ চিৎকার-চেঁচামেচি করে লোক জড়ো করলে পরিস্থিতি জটিল হয়। তবে কাইয়ুম মোস্তফা মারধরের ঘটনা স্বীকার করে বলেন, পরিস্থিতির চাপে একজন রাজের গায়ে হাত তুলে ফেলেছিলেন।
জাহিদ মৃধা বলেন, ‘আমি কোনো ধরনের ইন্ধন দিইনি। এটা ওদের ব্যাচের বিষয়। আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।’
এদিকে রাজের বিরুদ্ধে পাল্টা বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন অভিযুক্তরা। তাদের দাবি, রাজ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ এবং সহপাঠীদের সঙ্গে অসন্তোষজনক আচরণ করায় ক্লাসের শিক্ষার্থীরা যৌথভাবে তাকে বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে রাজ এসব অভিযোগের বেশির ভাগই বানোয়াট দাবি করেন– আগের কিছু বিষয় শিক্ষকদের মাধ্যমে অনেক আগেই সমাধান হয়েছে। মূলত সিনিয়রদের র্যাগিং ও ‘ম্যানার’ শেখানোতে বাধা দেওয়ার পর থেকেই তাঁর ওপর সবাই ক্ষিপ্ত।
এদিকে ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি সভা করেছে বিভাগ। সভায় অভিযোগ তদন্তে বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিমকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন– অধ্যাপক ড. জুলফিকার হোসেন, ড. লুৎফর রহমান ও ফকরুল ইসলাম। কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুন্সি মুর্তজা আলী বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর মিটিং করে তদন্ত কমিটি করেছি। কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।’
প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘ভুক্তভোগী এবং অভিযুক্ত যেহেতু একই বিভাগের, তাই বিষয়টি বিভাগে সমাধান হওয়া ভালো। বিভাগে সমাধান না হলে তখন দেখব।’
- বিষয় :
- কুষ্টিয়া