ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুন্দরবনের গহিনে বাড়ছে ছদ্মবেশী অনুপ্রবেশকারী

সুন্দরবনের গহিনে বাড়ছে ছদ্মবেশী অনুপ্রবেশকারী
×

ফাইল ছবি

মনিরুল হায়দার ইকবাল, মোংলা (বাগেরহাট)

প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২২:৫৮

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে এবার রাস উৎসব বাতিল করা হলেও বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ ধরার জেলের ছদ্মবেশে বনের গহিনে অনুপ্রবেশ করার ঘটনা বেড়ে গেছে।

বনরক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাস উৎসবকালীন বিপুল সংখ্যক লোক ট্রলার নিয়ে গোপনে বনের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ করে। এমনকি উৎসব বাতিল করা হলেও অনুপ্রবেশকারীরা মেলাস্থল দুবলার চরসহ আশপাশের এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছে। অনুপ্রবেশকারীর কেউ কেউ হরিণ শিকার করতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বন বিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে কীভাবে এত বিপুল সংখ্যক লোক ট্রলার নিয়ে বনের গহিনে অনুপ্রবেশ করেছে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও রহস্য দেখা দিয়েছে।

নির্ভরযোগ্য কয়েকটি সূত্র জানায়, বন বিভাগ যে সংখ্যক অনুপ্রবেশকারীকে আটক ও ট্রলার জব্দ করেছে, তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি লোক রাসমেলা উপলক্ষে আগে ও পরে সুন্দরবনের গহিনে ট্রলার নিয়ে অনুপ্রবেশ করে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আটক হলেও অনেকেই নিরাপদে বন বিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে আবার লোকালয়ে ফিরে এসেছে।

গত ৫ নভেম্বর থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত ৯ দিনে সুন্দরবনে অনুপ্রবেশের অভিযোগে বন বিভাগ পৃথক অভিযান চালিয়ে ১৩টি ট্রলারসহ ১৯৬ জনকে আটক করেছে। আটকদের সবাইকে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সুন্দরবনে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের অভিযোগে বুধবার ভোরে বনের হারবারিয়া এলাকা থেকে চারটি ট্রলারসহ ৫৫ দর্শনার্থীকে আটক করে বন বিভাগ। এর আগের দিন মঙ্গলবার সকালে বনের ভদ্রা এলাকা থেকে একটি ট্রলারসহ ১৯ জন ও চরাপুটিয়া এলাকা থেকে একটি ট্রলারসহ ১৩ জনকে আটক করা হয়। সোমবার বনের ধানসিদ্ধির চর এলাকা থেকে চারটি ট্রলারসহ ৪৯ জনকে আটক করা হয়।

অন্যদিকে গত ৫ নভেম্বর সুন্দরবনের জয়মনি এলাকা থেকে প্রথম দফায় তিনটি ট্রলারসহ বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার গৌরম্ভা ইউনিয়নের ৬০ জনকে আটক করেছিল বন বিভাগ।

এদিকে বন বিভাগের অনুমতি না নিয়ে সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণের অভিযোগে দুই জেলেকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে পূর্ব সুন্দরবনের দুবলা টহল ফাঁড়ির নীলবাড়িয়া খাল থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২৫ কেজি কাঁকড়াও জব্দ করা হয়। আটক জেলেরা হলেন মোংলা উপজেলার দক্ষিণ চাঁদপাই গ্রামের হোসেন শেখ ও ইমরান মোল্লা। বন আইনে মামলা দায়েরের পর তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহমুদুল হাসান জানান, রাসমেলা উপলক্ষে আটকরা কয়েকদিন আগে মাছ ধরার জেলের ছদ্মবেশে ট্রলারে অবৈধভাবে সুন্দরবনের দুবলার চরে যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে অধিকাংশ অনুপ্রবেশকারীকে বনরক্ষীরা আটক করে। তবে প্রথম দফায় তিনটি ট্রলারসহ আটক ৬০ জন সুন্দরবনে অনুপ্রবেশের আগেই হরিণ ধরার ফাঁদ ও সরঞ্জামসহ বনরক্ষীদের হাতে আটক হয়।

তিনি জানান, বন বিভাগসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রাসমেলার আগেই যাতে বনে কেউ অনুপ্রবেশ করতে না পারে সে জন্য সজাগ দৃষ্টি রেখেছিলেন। এরপরও বনে অনুপ্রবেশের বিষয় বিচ্ছিন্ন ঘটনা।

আরও পড়ুন

×