ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

চাচাতো বোনকে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় খুন

চাচাতো বোনকে বিয়ে করতে  রাজি না হওয়ায় খুন

ফাইল ছবি

ইন্দ্রজিৎ সরকার

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৩ | ২২:৫৪

গোবিন্দগঞ্জের শাহপাড়া খলশী এলাকার স্কুলছাত্র শ্যামল রবিদাস (১৮) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন হয়েছে। ২০২০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে নিখোঁজ হয় সে। পরদিন সকালে বাড়ির পাশে গুরুতর আহত ও অচেতন অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। পরে দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় শ্যামলের। চাচাতো বোনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় আপন চাচি ও চাচাতো ভাই মিলে তাকে হত্যা করে। 

তিন বছর আগে এ ঘটনায় হত্যা মামলা হলেও পুরো বিষয়টি ছিল রহস্যে ঘেরা। কেন তাকে হত্যা করা হলো, কে বা কারা এতে জড়িত– এসব ব্যাপারে পরিবারের কোনো ধারণা ছিল না। থানা পুলিশও ৯ মাসের তদন্তে রহস্যের কিনারা করতে পারেনি। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে পিটিয়ে হত্যা করে আপন চাচি ও চাচাতো ভাই।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাইবান্ধা জেলা পিবিআইর এসআই ইলিয়াস আলী সমকালকে বলেন, বাদীর মোবাইল ফোনে আসা খুদেবার্তার সূত্র ধরে জট খোলে হত্যারহস্যের। এরই মধ্যে মামলাটির তদন্ত শেষ হয়েছে। হত্যায় জড়িত তিনজনের বিরুদ্ধে শিগগির আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, শাহপাড়া খলশী এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকত শ্যামল। নিখোঁজের দিন বাসায় না ফেরায় স্বজনরা তার মোবাইল ফোন বন্ধ পান। তখন সবাই মিলে তাকে খুঁজতে শুরু করেন। তবে সন্ধান মেলেনি। পরদিন সকাল ৯টার দিকে স্বজনরা চাচি মালতী রানীর বাড়ির পাশের ড্রেনে তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার শরীরজুড়ে জখমের অনেক চিহ্ন ছিল। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে স্থানান্তর করা হয় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এ ঘটনায় শ্যামলের বাবা গ্রাম পুলিশ সদস্য সাদাফল রবিদাস অজ্ঞাতপরিচয়দের বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করেন। পুলিশ ঘটনা উদ্ঘাটন করতে না পারায় মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তর করে।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, নিহতের বাবার মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা যায়, ইদ্রিস আলী নামে এক ব্যক্তি বেশ কয়েকবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাঁর কাছ থেকে আসা একটি খুদেবার্তায় হত্যার  ক্লু পাওয়া যায়।
ওই ব্যক্তির খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা যায়, একটি ধর্ষণ মামলায় তিনি কারাবন্দি। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। জানা যায়, বিধবা মালতী রানী রংপুরের একটি ছাত্রীনিবাসে রান্নার কাজ করতেন। সেখানে ইদ্রিসের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পিবিআই সূত্র জানায়, মালতীর মেয়ে সীতা রানী ও ভাতিজা (দেবরের ছেলে) শ্যামলের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। হত্যাকাণ্ডের চার দিন আগে তাদের শারীরিক সম্পর্কের কথা জানতে পেরে মালতী ক্ষুব্ধ হন। তিনি বিষয়টি তাঁর ছেলে সাগর রবিদাসকে জানান। তখন রংপুর থেকে এসে শ্যামলকে মারধর করে সাগর। ওই অবস্থায় মালতী মেয়েকে শ্যামলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। শ্যামল রাজি হয়নি। এ নিয়ে ঘটনার এক দিন আগেও সাগর তাকে মারধর করে। ঘটনার দিন বাড়ির পাশের বাঁশঝাড়ে লাঠিসোটা নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন মালতী ও সাগর। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শ্যামল বাড়িতে ফেরার পথে মা-ছেলে তাকে পিটিয়ে জখম করে। পিটুনিতে নিস্তেজ হয়ে পড়লে মৃত ভেবে তারা শ্যামলকে ড্রেনে ফেলে দেয়। পরদিন সকালে খোঁজাখুঁজির ছলে মালতী ড্রেনের কাছে গিয়ে চিৎকার করে শ্যামলকে পাওয়ার কথা জানায়।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মালতী ও সাগর পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। আর তাদের বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেন ইদ্রিস। পরে মালতীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হলে তিনি হত্যার বিষয়টি জানিয়ে শ্যামলের বাবাকে খুদেবার্তা পাঠান।

আরও পড়ুন

×