জ্বালানি সংকটে উন্নয়নশীল দেশে চাপ বাড়ছে
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:০৫ | আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:২৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
যুদ্ধ পরিস্থিতি জ্বালানি খাতে নতুন অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে। তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন, মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ঝুঁকিতে উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়ছে। এই বাস্তবতায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দ্রুত টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন জ্বালানি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।
গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বৈশ্বিক অস্থিরতা: জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিতের উপায়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা উঠে আসে। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, এশিয়ান পিপলস মুভমেন্ট অন ডেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এপিএমডিডি) এবং ফসিল ফুয়েল ট্রিটি ইনিশিয়েটিভের (এফএফটি) যৌথ আয়োজনে এই সভা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন (বকুল) বলেন, দেশের জ্বালানি ও পরিবেশ খাত একাধিক মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকায় কার্যকর সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট। এর ফলে অনেক সময় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অসংগতি দেখা দেয়, যা শেষ পর্যন্ত পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।
আশরাফ উদ্দিন বলেন, দেশের শহর ও শিল্পাঞ্চলে বিপুল পরিমাণ অব্যবহৃত ছাদ রয়েছে, যা ব্যবহার করে হাজার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।
মূল প্রবন্ধে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক রিভারফক্স এনভায়রনমেন্টালের সিইও ডোনা লিসেনবি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে তার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার মতো উন্নয়নশীল অঞ্চলে। এই নির্ভরতা কমাতে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের ওপর জোর দেন তিনি। ডোনা লিসেনবি রামপাল, পায়রা ও মাতারবাড়ী এলাকায় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র বা ‘সোলার হাব’ গড়ে তোলার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, এসব উদ্যোগ দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।
ফিলিপাইনের এপিএমডিডি সমন্বয়কারী লিডি ন্যাকপিল বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কেবল অর্থনৈতিক ঝুঁকিই তৈরি করছে না, বরং সামাজিক ও মানবিক সংকটকেও তীব্র করছে। জলবায়ু অর্থায়নে
উন্নত দেশগুলোর ‘ফেয়ার শেয়ার’ ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়কারী শরীফ জামিল সতর্ক করে বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের দূষণ সুন্দরবন, মৎস্যসম্পদ ও স্থানীয় জীবিকার ওপর প্রভাব ফেলছে। একইভাবে পায়রা ও পটুয়াখালী অঞ্চলের বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো ইলিশের প্রজননক্ষেত্র ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল হক, একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, ফসিল ফুয়েল ট্রিটি ইনিশিয়েটিভের এশিয়া ক্যাম্পেইনার মেগা মাসকি, ব্রাইট গ্রিন এনার্জি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান দীপাল বড়ুয়া এবং সিপিআরডির নির্বাহী পরিচালক মো. শামসুদ্দোহা।
- বিষয় :
- জ্বালানি সংকট