ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাতি অধ্যুষিত এলাকায় ১৫৯ রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে

হাতি অধ্যুষিত এলাকায় ১৫৯ রেসপন্স টিম  গঠন করা হয়েছে
×

আবদুল আউয়াল মিন্টু

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৩৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে বন্যহাতির সংখ্যা ক্রমেই কমছে। হাতির আবাসস্থল দখল ও ধ্বংস, বন উজাড়, অবৈধ শিকার এবং বন্যপ্রাণী অপরাধকে এ প্রাণীর অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছে সরকার। হাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সংরক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেছেন, হাতির আগমন সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করা, গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং মানুষ ও হাতির সংঘাত কমাতে হাতি অধ্যুষিত এলাকায় ১৫৯টি এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিশ্ব হাতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন ভবনে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, একসময় দেশে প্রচুর বন্যহাতি ছিল। কিন্তু আবাসস্থল দখল ও ধ্বংস, বন উজাড়, অবৈধ শিকার এবং বন্যপ্রাণী অপরাধের কারণে বর্তমানে হাতির সংখ্যা কমে আসছে। হাতির আবাসস্থল রক্ষা করা মানে হাতিকে রক্ষা করা নয়; এর সঙ্গে বন ও পরিবেশের সুরক্ষা জড়িত। 

২০১৫ সালের জরিপের তথ্য তুলে ধরে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ওই সময় দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বন্যহাতি ছিল ২৬৮টি। এর বাইরে পরিযায়ী হাতি ছিল ৯৩টি। অর্থাৎ, দেশে বন্যহাতির সংখ্যা ছিল ৩৬১টি। এ ছাড়া পোষা হাতি ছিল ৯৬টি।
মন্ত্রী বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে দেশে আবার হাতি জরিপের উদ্যোগ নেওয়া হবে। হাতি সংরক্ষণের জন্য ৪০টি অগ্রাধিকার কার্যক্রম চিহ্নিত করে বাংলাদেশ এলিফ্যান্ট কনজারভেশন অ্যাকশন প্ল্যান (২০১৮-২০২৭) প্রণয়ন করা হয়েছে।

হাতি সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণকে সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় জনগণকে বাদ দিয়ে হাতি সংরক্ষণ কখনোই টেকসই হবে না। হাতির আগমন সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করা, হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং মানুষ ও হাতির সংঘাত কমাতে হাতি অধ্যুষিত এলাকায় ১৫৯টি এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে।
মানুষ ও হাতির সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের তথ্য তুলে ধরে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বন্যপ্রাণী দ্বারা আক্রান্ত জানমালের ক্ষতিপূরণ বিধিমালা ২০২১ অনুযায়ী নিহত ব্যক্তির পরিবারকে তিন লাখ টাকা, আহত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা এবং ঘরবাড়ি, ফসলসহ জানমালের ক্ষতির জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। ২০১২ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত হাতির আক্রমণে নিহত ৩২২ জনের পরিবার, আহত ১৬৯ জন এবং ঘরবাড়ি ও ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন তিন হাজার ২১৫টি পরিবারকে প্রায় ১৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। 
প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক) ড. মো. সাইমুম পারভেজ, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম ও আরণ্যক ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ড. মো. আব্দুল মোতালেব উপস্থিত ছিলেন।
 

আরও পড়ুন

×