ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চার মাস ‘নিখোঁজ’ মিরাজকে ফেরত চায় পরিবার

সংবাদ সম্মেলন

চার মাস ‘নিখোঁজ’ মিরাজকে ফেরত চায় পরিবার
×

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন মিরাজের মা তাসলিমা বেগম- সমকাল

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৪৪ | আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:০২

| প্রিন্ট সংস্করণ

চার মাসের বেশি নিখোঁজ বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মনির ঘোল এলাকার জেলে মিরাজ শেখকে দ্রুত উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তাঁর পরিবার। গতকাল সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় খুঁজে বের করার পাশাপাশি নিখোঁজের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এবং ভুক্তভোগী পরিবার যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এ সময় নিখোঁজ হওয়া মিরাজের মা তাসলিমা বেগম, স্ত্রী মুক্তা খাতুন, বোন লিজা ইসলাম ও ছেলে মাহিন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন, হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান, ব্লাস্টের পরিচালক আইনজীবী বরকত আলী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মোংলা উপজেলার জয়মনির ঘোল এলাকার বাসিন্দা জেলে মিরাজ শেখ ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন। গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার জয়মনি হাট থেকে তাঁকে তুলে নেন কোস্টগার্ড সদস্য পরিচয় দেওয়া সাদা পোশাকধারী দুই ব্যক্তি। পরে তারা মিরাজকে হারবাড়িয়া কোস্টগার্ড স্টেশনের পন্টুনে নিয়ে গেলে সেখানে মোংলার দিক থেকে কোস্টগার্ডের একটি স্পিডবোট আসে। সেই স্পিডবোটে ৮ থেকে ১০ জন ইউনিফর্ম পরিহিত সদস্য ছিলেন বলে দাবি মিরাজের পরিবারের।

লিজা ইসলাম জানান, স্পিডবোটটির গায়ে স্পষ্টভাবে ‘বাংলাদেশ কোস্টগার্ড’ লেখা ছিল। ঘটনাটি উপস্থিত গ্রামবাসী ও মিরাজের স্ত্রীর সামনেই ঘটে। মিরাজের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জয়মনি হাটের চায়ের দোকানদার আল আমিনের জিম্মায় রাখা ছিল। মিরাজকে নিয়ে যাওয়ার ১০ দিন পর গভীর রাতে রবিন নামে এক ব্যক্তি ও মিজান মাঝি এসে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান। রবিন নিজেকে কোস্টগার্ডের সদস্য পরিচয় দেন এবং কার্ড দেখান।

তিনি জানান, ১০, ১১ ও ১২ এপ্রিল কোস্টগার্ড সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মিরাজ তাদের হেফাজতে থাকার বিষয়টি তারা স্বীকার করেন। অপরাধ পাওয়া না গেলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন।
স্বামীর খোঁজ না পেয়ে গত ২৩ এপ্রিল একটি জিডি করেন মিরাজের স্ত্রী মুক্তা ফাতেমা। তিনি বলেন, স্বামীকে ফিরে পেতে এর আগে আমরা মানববন্ধন করেছিলাম। সেখানে আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়। আমাদের মারধর করে মামলাও দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মা, স্ত্রী ও বোন ২৭ দিন জেলে ছিলেন বলে জানান তিনি।

মিরাজের মা তাসলিমা বেগম বলেন, ‘আমি কোস্টগার্ডের পা ধরে বলছি, আমার ছেলেটাকে দিয়ে দেন। তারা আমাকে আর আমার ছেলের বউকে মারছে। তারপর থানায় নিয়ে মামলা দিছে। এক মাস জেলে থাকার পর বের হয়ে দেখি, গ্রামের সবাইরে মামলা দিছে, মারধর করছে, বাড়িঘর ভেঙে ফেলছে। তাদের ভয়ে সবাই রাতে পালিয়ে থাকে। আমরাও বাড়ি থাকতে পারি না তাদের জন্য।’
তিনি বলেন, ‘কোস্টগার্ড আমার ছেলেকে নিয়ে গেছে, এটা সবাই দেখছে, ভিডিও আছে। এখন কোস্টগার্ডের ভয়ে কেউ কিছু বলছে না।’

আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, এই সরকারের আমলে একটি বাহিনীর বিরুদ্ধে এই প্রথম একটি গুমের অভিযোগ আনা হয়েছে। কোস্টগার্ডের ১/২ জন সদস্য অপরাধ করলে পুরো বাহিনীর দায়ভার নয়। 

এর আগে ১২ জুলাই এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিখোঁজ মিরাজকে ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ওই নির্দেশের পর ঘটনাটি তদন্তে সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

আরও পড়ুন

×