৪১ ব্যাংকের সিএসআরের ২৭৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ
শেখ হাসিনা-রেহানাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:৫৪ | আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:১১
৪১টি ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) তহবিল থেকে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে সংগ্রহ করে আত্মসাতের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মামলার অন্য আসামি হলেন- বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার কমিশনের ঢাকা-১ কার্যালয়ে মামলাটি করেন। পরে দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান ব্রিফিং করে মামলার তথ্য জানান।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আট বছরে ৪১টি তফসিলি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুকূলে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়। ক্ষমতার অপব্যবহার ও পরস্পর যোগসাজশে এ অর্থ সংগ্রহ করে রাষ্ট্রীয় আর্থিক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দুদক।
এজাহারে বলা হয়, বিএবির সভাপতি থাকার সময় নজরুল ইসলাম মজুমদার শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনার নাম উল্লেখ করে প্রভাব খাটিয়েছিলেন। বিএবির নির্বাহী কমিটির সভার আলোচ্যসূচিতে বিষয়টি না থাকলেও ‘বিবিধ’ আলোচনায় ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ট্রাস্টে অর্থ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে ট্রাস্টের অনুকূলে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেওয়ার জন্য ব্যাংকগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়। এর মাধ্যমে ৪১টি ব্যাংক থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদক বলেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০০৮ সালের ১ জুন জারি করা ডিওএস সার্কুলারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সিএসআর তহবিল ব্যয়ের বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। তবে ওই নির্দেশনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টে অনুদান দেওয়ার কোনো বিধান নেই।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, দুদকের কর্মকর্তারা সরেজমিনে ট্রাস্টের ঠিকানা পরিদর্শন করে কোনো দাপ্তরিক কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাননি। ট্রাস্টের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কিনা, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগ, শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা ব্যক্তিগত লাভের অসৎ উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেন। ট্রাস্টের ঘোষিত কার্যক্রমের বাস্তব অস্তিত্বও পাওয়া যায়নি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।