ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাবেদের বিদেশে থাকা আরও সম্পদ জব্দের নির্দেশ

জাবেদের বিদেশে থাকা আরও সম্পদ জব্দের নির্দেশ
×

সাইফুজ্জামান চৌধুরী। ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০১:৪১

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিদেশে অর্জন করা আরও সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত। গত ৩ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির তার নামে সিঙ্গাপুরে থাকা স্থাবর সম্পত্তি এবং বিভিন্ন দেশের ব্যাংক হিসাবে জমা করা অর্থ ক্রোক ও অবরুদ্ধের ওই আদেশ দেন। এর আগেও আদালত বিদেশে জাবেদের সম্পদ জব্দের একাধিক আদেশ দিয়েছেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম গতকাল সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন।

আদালতে দেওয়া দুদকের আবেদনে বলা হয়, জবেদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করতে গিয়ে সিঙ্গাপুরে তার নামে একটি স্থাবর সম্পত্তি, আটটি ব্যাংক হিসাব এবং একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ওইসব সম্পদ হস্তান্তর বা বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে গোপন সূত্রে জানতে পেরেছে দুদক। সম্পদগুলো যাতে অন্যত্র হস্তান্তর বা বিক্রি করতে না পারে সেজন্য সেগুলোর ওপর আদালত ক্রোক অবরুদ্ধের আদেশ দেন। 

জানা গেছে, সিঙ্গাপুরের ১০ সেন্ট থমাস ওয়াক, ৮ সেন্ট থমাস, ০৮-০৬, সিঙ্গাপুর ২৩৮১০২ ঠিকানায় একটি সম্পত্তি রয়েছে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নামে। ২০১৯ সালের ৭ জুন সম্পত্তিটি কেনা হয়। এর ক্রয়মূল্য ১৬ লাখ ১২ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার। 

দুদকের অনুসন্ধানে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে হিসাব থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরের এসবিসি ব্যাংকে তিনটি হিসাব রয়েছে দুটি সঞ্চয়ী হিসাব এবং একটি বিনিয়োগ হিসাব। দুটি হিসাব সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও স্ত্রী রুকমিলা জামানের যৌথ নামে রয়েছে। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংক পিজেএসসি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিটি ব্যাংকে একটি করে ব্যাংক হিসাবের তথ্য আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

সিঙ্গাপুরের ডিবিএস ব্যাংকেও তিনটি বিনিয়োগ হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আরামিট প্রপার্টিজ লিমিটেড, জেডটিএস প্রপার্টিজ লিমিটেড এবং নিউ ভেঞ্চারস (লন্ডন) লিমিটেডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসাব রয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরের জাসা ওশান পিটিই লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর পরিচালক থাকার তথ্যও পেয়েছে দুদক। নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১৫ মার্চ তিনি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হন এবং ২০১৯ সালের ৩ মে পদটি ছাড়েন। 

দুদক উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে জাবেদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদক, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নয় সদস্যের একটি টাস্কফোর্স অনুসন্ধান, তদন্তের কাজ করছে। 

আরও পড়ুন

×