গ্যাস পরিস্থিতি
চট্টগ্রাম নারায়ণগঞ্জ নরসিংদীতে চাপ বেড়েছে, গাজীপুরে সংকট কাটেনি
৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে
ফাইল ফটো
হাসনাইন ইমতিয়াজ
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪৮ | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:১৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
এলএনজি সরবরাহ বাড়ার ফলে দেশের গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও শিল্পে ক্রমান্বয়ে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ছে। চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ এবং নরসিংদী এলাকার কারখানাগুলোতে গত সোমবারের তুলনায় গতকাল মঙ্গলবার গ্যাসের চাপ বেশি ছিল। তবে গাজীপুর ও সিলেটের কারখানাগুলোতে এখনও গ্যাসের সংকট কাটেনি।
কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর প্রায় দুই মাসের গ্যাস-সংকটে সোমবার সন্ধ্যা থেকে এলএনজির সরবরাহ বাড়তে থাকে। সোমবার বিকাল ৪টায় দেশের মোট গ্যাসের সরবরাহ ছিল ২৩৭ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে এলএনজি থেকে পাওয়া গেছে ৭৬ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে মিলেছে ১৬১ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট। গতকাল বিকেল ৪টায় এলএনজি সরবরাহ বেড়ে দাঁড়ায় ৯৯ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট। দেশীয় গ্যাস থেকে মিলে ১৬১ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট। মোট সরবরাহ বেড়ে হয়েছে ২৬০ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট। গতকাল রাত ৮টায় সরবরাহ আরও বেড়ে দাঁড়ায় ২৬২ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট।
গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগে। এতে টার্মিনালের একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দৈনিক ৪৫-৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে শিল্পকারখানা থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহক– সবখানে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন কমে লোডশেডিং বাড়ে।
দীর্ঘ মেরামতের পর ১৫ আগস্ট এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালটি আবার পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রস্তুত হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত এলএনজি কার্গো না আসায় সরবরাহ দ্রুত বাড়ানো সম্ভব হয়নি। গত সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার পস্কো কোম্পানির একটি কার্গো এক্সিলারেটের টার্মিনালে যুক্ত হয়। এরপর এক্সিলারেট থেকে পূর্ণ ক্ষমতায় গ্রিডে গ্যাস দেওয়া শুরু হয়। এতেই দেশের গ্যাসের পরিস্থিতির খানিকটা উন্নতি হওয়া শুরু হয়।
তবে সরবরাহ বাড়লেও দেশের গ্যাস পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। ২৬০ কোটি ঘনফুট সরবরাহেও ঘাটতি থাকবে প্রায় ১২০ কোটি ঘনফুট।
ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে
টার্মিনাল দুর্ঘটনার পর শিল্প ও আবাসিকে গ্যাসের দৈনিক সরবরাহ ১৪০-১৪৫ কোটি ঘনফুট থেকে ৯০-৯৫ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছিল। এটি গতকাল আবার ১৪৫ কোটি ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে। গতকাল থেকে মোট গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে ৩০ কোটি ঘনফুট। এর থেকে ১৫-২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস শিল্প খাতে দেওয়া হচ্ছে। এতে চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ এবং নরসিংদী এলাকার কারখানাগুলোতে চাপ বেড়েছে।
তিতাস গ্যাসের একজন পরিচালক জানিয়েছেন, গ্যাসের পুরো নেটওয়ার্ক যদি গ্যাস দিয়ে পূর্ণ থাকে, তাহলে সব পয়েন্টে ভালো চাপ পাওয়া যায়। অনেক দিন ঘাটতি থাকায় এখন লাইনে সরবরাহ বাড়লেও তা বিভিন্ন গ্রাহক পয়েন্টে টেনে নেওয়া হচ্ছে, পাইপ পূর্ণ হওয়ার সময় পাচ্ছে না। এর পরও ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। মেঘনাঘাট পয়েন্টে গ্যাসের চাপ বেড়েছে। এতে নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী এলাকার কারখানা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র ভালো গ্যাস পাচ্ছে। এই এলাকার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর চাপ ৪০০ পিএসআই থেকে ৪৮০ পিএসআই হয়েছে। কারখানাগুলো ২০/৩০ পিএসআই চাপে গ্যাস পাচ্ছে। তবে ধনুয়া পয়েন্টে এখনও চাপের খুব বেশি উন্নতি হয়নি। এতে গাজীপুর এলাকার কারখানাগুলোতে এখনও গ্যাসের সংকট চলছে।
তিনি আরও জানান, ২১ জুলাইয়ের টার্মিনাল দুর্ঘটনার আগে তিতাসের জন্য দৈনিক বরাদ্দ ছিল ১৫০ কোটি ঘনফুট। এখন তা কমিয়ে ১৪০ দশমিক ১১ কোটি ঘনফুটে আনা হয়েছে। তিতাস এলাকার কারখানাগুলো পাঁচ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম পাচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, আগামী শুক্র-শনিবার ছুটির থাকায় গ্যাসের চাহিদা কম থাকবে, তখন নেটওয়ার্ক গ্যাস দ্বারা পূর্ণ হতে পারে। এরপর গ্যাসের ভালো চাপ মিলবে।
জানতে চাইলে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ সমকালকে বলেন, গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে। সব এলাকায় এর সুফল পেতে দু-এক দিন সময় লাগবে।
চট্টগ্রামেও গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজারে (সিইউএফএল) প্রায় ছয় মাস পর আবার সার উৎপাদন শুরু হয়েছে।
তৈরি পোশাক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান সমকালকে জানান, গত কয়েক দিনের তুলনায় গতকাল গ্যাস-বিদ্যুতের পরিস্থিতি কিছুটা ভালো ছিল। চট্টগ্রাম অঞ্চলের কারখানাগুলোতে পরিস্থিতি বেশ ভালো ছিল। তিনি জানান, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের কারখানাগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ পরিস্থিতি হয়তো আজ বুধবারের মধ্যে উন্নতি হবে।
বিদ্যুতেও সরবরাহ বেড়েছে
বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে বর্তমানে দৈনিক ৮৫ কোটি ঘনফুটের আশপাশে গ্যাস দেওয়া হচ্ছিল। তা এখন বেড়ে হয়েছে ৯৫ কোটি ঘনফুট। এদিকে গতকাল বিকেল ৩টায় লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ৫৯৪ মেগাওয়াট।
- বিষয় :
- গ্যাস
- এলএনজি
- এলএনজি সরবরাহ