ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডিজিটাল টিকিটিংয়ে বাড়বে রাজস্ব ও স্বচ্ছতা

গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা

ডিজিটাল টিকিটিংয়ে বাড়বে রাজস্ব ও স্বচ্ছতা
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৫৮ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

গণপরিবহনে ডিজিটাল টিকিটিং চালু হলে ভাড়া আদায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, যাত্রী চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণ এবং উন্নত পরিবহন পরিকল্পনার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন খাত-সংশ্লিষ্টরা। গতকাল বুধবার রাজধানীতে নীতি সংলাপ প্ল্যাটফর্ম বেঞ্চমার্ক ডায়ালগ আয়োজিত ‘ডিজিটাল টিকিটিং টু ট্রান্সফর্ম লাইভস, পাওয়ার্ড বাই সহজ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এ মনোভাব ব্যক্ত করেন। 

তবে তারা এটিও জানান, শুধু প্রযুক্তি চালু করলেই এর সুফল মিলবে না। এ জন্য প্রয়োজন বিভিন্ন পরিবহন ও পেমেন্ট ব্যবস্থার আন্তঃসংযোগ, নিরাপদ লেনদেন এবং সরকারি-বেসরকারি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন বেঞ্চমার্ক ডায়ালগের চেয়ারম্যান আশরাফ কায়সার।

আলোচনায় শ্যামলী পরিবহনের পরিচালক রজত ঘোষ বলেন, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে টিকিটিং ব্যবস্থা শতভাগ ডিজিটালাইজ করা প্রয়োজন। উৎসবের সময়ে অনলাইন টিকিটের চাহিদা বাড়লেও স্বাভাবিক সময়ে অনেক যাত্রী কাউন্টার থেকে টিকিট নেন। টার্মিনালভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তুললে ডিজিটাল টিকিটিং আরও বিস্তৃত করা সম্ভব। 

এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ও উদ্যোক্তা ফজলুল হক বলেন, অনলাইন টিকিটিংয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় নীতিগত বাধা নেই। তবে টিকিটের দামাদামি, নগদ অর্থের চলাচল ও লেনদেন ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়কে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। 

বিআরটিসির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শুকদেব ঢালী জানান, ডিজিটাল লেনদেনের ফলে সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে আস্থা বাড়তে পারে। বুয়েটের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ বলেন, শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, তা বিশ্লেষণ করে পরিবহন পরিকল্পনায় ব্যবহার করতে হবে। কোন রুটে কখন যাত্রীর চাপ বাড়ছে বা কোথায় অতিরিক্ত পরিবহনের প্রয়োজন–ডিজিটাল তথ্য থেকে তা নির্ধারণ করা সম্ভব। একই সঙ্গে যাত্রী নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও উন্নত করা যেতে পারে। ক্যাব সভাপতি এএইচএম শফিকুজ্জামান ডিজিটাল টিকিটিংয়ে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। 

যাত্রী কল্যাণ সমিতির সভাপতি শরীফ রফিকুজ্জামান যাত্রীদের বীমা, ন্যায্য ভাড়া ও উন্নত সেবা নিশ্চিত করার কথা বলেন। সিপিডির ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ডিজিটাল ব্যবস্থায় সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রযুক্তিতে কম অভ্যস্ত মানুষও সহজে সেবা নিতে পারেন। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. নবীর উদ্দিনের মতে, ব্যবহারকারীর জন্য একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম থাকলেও এর পেছনে একাধিক সেবা ও পেমেন্ট ব্যবস্থা থাকতে পারে।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও বিমানসহ বিভিন্ন পরিবহনে ডিজিটাল টিকিটিং বিস্তৃত হলে টিকিট বিক্রির তথ্যের ভিত্তিতে রাজস্ব ফাঁকি কমানো, ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং রুট পরিকল্পনা আরও কার্যকর করা সম্ভব। 

আরও পড়ুন

×