ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাউন্সিলর নেই, মশা নিয়ন্ত্রণে বিএনপির নেতাকর্মীরা

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন

কাউন্সিলর নেই, মশা নিয়ন্ত্রণে বিএনপির নেতাকর্মীরা
×

 অমিতোষ পাল

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪৮ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:০৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

অনেক রকম সমস্যার মধ্য দিয়ে চলছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রম। যেখানে প্রতি সিটি করপোরেশন এলাকায় মশক নিয়ন্ত্রণে জনবল দরকার দুই সহস্রাধিক, সেখানে অর্ধেক জনবল দিয়ে চলছে এই কাজ। সেই জনবলও ভাড়া করা। কিছু স্বেচ্ছাসেবীকে নতুন করে যুক্ত করা হলেও তাদের কার্যক্রম তদারকিতে নেই দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ। আগে কাউন্সিলররা মশককর্মীদের কার্যক্রম তদারক করতেন। ওষুধ তারাই বণ্টন করতেন। গণঅভ্যুত্থানের পর বরখাস্ত কাউন্সিলরদের শূন্যতা আর পূরণ হয়নি। আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করলেও ১৬৮ জন কাউন্সিলরের স্থলে তারা মাত্র ২০ জন। এ অবস্থায় ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মীদের সহযোগিতা নিচ্ছে সিটি করপোরেশন। কিন্তু তাদেরও দায়বদ্ধতা না থাকায় আশানুরূপ ফল মিলছে না।

অবশ্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান সমকালকে বলেন, কাউন্সিলর থাকলে ভালো হতো। তারা যেহেতু নেই, আমরা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের সহযোগিতা নিচ্ছি। তারা উৎসাহ নিয়েই আমাদের সঙ্গে থাকছেন এবং তারা কথা বললে জনগণও শোনেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসসিসির এক কর্মকর্তা বলেন, ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপির যেসব নেতাকর্মী সামনে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করতে চান, তারা আসছেন। এতে তাদের জনসংযোগের কাজ হচ্ছে।  
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস বলেন, ইতোমধ্যে উত্তরা এলাকার এমপি জাহাঙ্গীর আলম ও সংরক্ষিত আসনের এমপি সানজিদা খাতুন তুলি আমাদের কর্মসূচিতে দুদিন যোগ দিয়েছেন। স্থানীয় বিএনপির নেতারা সহযোগিতা করছেন। কাউন্সিলরের অভাব কিছুটা পূরণ হচ্ছে। 

জনবলের ঘাটতি
জানা গেছে, ১৯৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ডিএনসিসির ৫৪টি ওয়ার্ডের মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে নিজস্ব জনবল মাত্র ১৫০ জন। এ ছাড়া মশক নিবারণী দপ্তর থেকে দেওয়া হয়েছে ২০০ জনকে। কিন্তু এই অল্পসংখ্যক জনবল দিয়ে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এ জন্য বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) কাছ থেকে চারশ কর্মী নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সেফগার্ডের কাছ থেকে চারশ নিরাপত্তাকর্মী ভাড়া নিয়ে চলছে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম। সম্প্রতি ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর ৩৫০ জন স্বেচ্ছাসেবী সংগ্রহ করেছে ডিএনসিসি। ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মীরাও কাজ করছেন। 

অন্যদিকে, ১০৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ডিএসসিসির মোট জনবল ১ হাজার ৫০ জন। এর মধ্যে বেশির ভাগই মাস্টাররোলে কর্মরত। প্রতিটি ওয়ার্ডে ১৩ জন প্রতিদিন দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু অবকাঠামোগত অবস্থা এতই অপরিকল্পিত, এই জনবল দিয়ে একটি ওয়ার্ডের মশক নিয়ন্ত্রণ কাজ ডেঙ্গু মৌসুমে চালানো সম্ভব নয়।
ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, প্রতি ওয়ার্ডে ২৬ জন জনবল দিতে পারলে ভালো হতো। এ জন্য আমরা প্রয়োজনীয় জনবল চেয়েছি। 

কাউন্সিলরদের অভাব অপূরণীয়
দুই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিগত সময়ে কাউন্সিলররা মশককর্মীদের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন। প্রতিদিন তাদের মশার ওষুধ বুঝিয়ে দেওয়া হতো। নিজ ওয়ার্ডের অলিগলি ঘুরে বেড়ানো এবং সে অনুযায়ী মশার অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নিতেন। এ ছাড়া সিটি করপোরেশন থেকে সরবরাহ করা ডেঙ্গু রোধে করা হতো করণীয় বিষয়ক লিফলেট বিতরণ। মসজিদ-মন্দির ও তথাকার ইমাম-পুরোহিতদের এ বিষয়ে বয়ান দেওয়ার অনুরোধ থাকত। দুই বছর ধরে এ কাজ বন্ধ। যাদের ওপর কাউন্সিলরদের দায়িত্ব, সেই সরকারি আমলারা ঢাকার অলিগলি চেনেন না।  

পশ্চিম শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা সৈয়দ সারোয়ার হোসেন বলেন, সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা কেবল মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা করেন। 
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার সমকালকে বলেন, ইনসেক্টিসাইডের সূচি অনুযায়ী যেখানে মশার লার্ভিসাইডিং করা হয়, ঠিক সাত দিন পর সেখানে আবার লার্ভিসাইডিং করতে হয়।

আবার প্রতিদিন সন্ধ্যায় ফগিং করতে হয়। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে তারা সেটি করতে পারেন না। আবার যে সংখ্যক জনবল রয়েছে, তার সঠিক ব্যবহার হয় কিনা, সেটি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এদিকে কাউন্সিলর না থাকায় তৃণমূল পর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মীদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। এটাকে আমি খারাপ হিসেবে দেখছি না। কিন্তু তারা কাউন্সিলরের অভাব তো পূরণ করতে পারছেন না। এ জন্য উচিত যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকারগুলোর নির্বাচনের আয়োজন করা।

আরও পড়ুন

×