মেঘনায় ট্রলারডুবি
তিন ভাই-বোনের পর মিলল বাবার মরদেহ
হেলাল উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:১৭
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজের চারদিন পর হেলাল উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে মেঘনা নদীর শাখা নদী মারিখালীর রতনপুর ব্রিজ এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও বৈদ্যেরবাজার নৌ-ফাঁড়ি পুলিশ।
বৈদ্যেরবাজার নৌ-ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ পরিদর্শক শাহ কামাল জানান, হেলালউদ্দিনের মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে নিখোঁজ চারজনের উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। পরে নিহতের বোন জামাই মোক্তার হোসেন মরদেহটি শনাক্ত করেন। এরপর পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
শনিবার সকালে বৈদ্যেরবাজার এলাকার আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় হেলালউদ্দিনের তিন সন্তান সজীব হোসেন, সামিয়া আক্তার ও সামিন হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ট্রলারডুবির পরপরই রায়েশা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এ নিয়ে ঘটনায় নিখোঁজ পাঁচজনের মরদেহই উদ্ধার করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে মেঘনা নদীর সোনাময়ী এলাকায় ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। এতে একই পরিবারের চারজনসহ পাঁচজন নিখোঁজ হন। ঘটনার সময় আমান সিমেন্ট কোম্পানির একটি ট্রলার আটজনকে উদ্ধার করে। নিখোঁজদের মধ্যে রায়েশা বেগমের মরদেহ ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়।
কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি গ্রাম থেকে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া বৈদ্যেপাড়া গ্রামের শাহপরানের মেয়ে সাজিয়া আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ১৩ জন আত্মীয়স্বজন ট্রলারে করে রওনা হন। তাদের সঙ্গে বিয়ের বাজার, দুটি গরু ও একটি খাসি ছিল। পথে মেঘনা নদীর সোনাময়ী এলাকায় আমান সিমেন্ট কোম্পানির কাছে পৌঁছালে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি নদীতে তলিয়ে যায়।
শুক্রবার বিকেলে ডুবে যাওয়া ট্রলার থেকে দুটি গরু ও একটি খাসি মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ওই দিন রাত ৮টা পর্যন্ত মেঘনা নদীতে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালিয়েও নিখোঁজদের সন্ধান না পেয়ে তা স্থগিত করে। পরে নদীতে ভাসমান অবস্থায় সজীব হোসেন, সামিয়া আক্তার ও সামিন হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ছাড়া বৃহস্পতিবার রাতে উদ্ধার করা রায়েশা বেগমের (৫৫) মরদেহ তার বড় ভাই আবুল কাশেমের কাছে হস্তান্তর করে বৈদ্যেরবাজার নৌ-ফাঁড়ি পুলিশ। রায়েশা বেগম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী।
হেলালউদ্দিনের বোন জামাই মোক্তার হোসেন জানান, পুলিশের কাছ থেকে হেলালউদ্দিনের মরদেহ গ্রহণ করেছেন। দাফনের জন্য মরদেহ গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার হোমনার শ্রীমুদ্দি গ্রামে নেওয়া হচ্ছে। এর আগে শনিবার হেলালউদ্দিনের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মরদেহ দাফন করা হয়েছে।
- বিষয় :
- ট্রলার ডুবি
- মরদেহ উদ্ধার
- নারায়ণগঞ্জ