চকরিয়ায় অপহরণের ছয় ঘণ্টা পর ছাত্রদল নেতার মরদেহ উদ্ধার
ইসপাতুল ইসলাম জিসান (২৭)। ছবি: সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৩:৫৭
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় অপহরণের ছয় ঘণ্টা পর এক ছাত্রদল নেতার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার ভোরে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ন্যাশনাল পার্ক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ইসপাতুল ইসলাম জিসান (২৭) লোটনি গ্রামের নাজেম উদ্দিন নাজুর ছেলে।
তিনি কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এদিকে, খুলনার রূপসা উপজেলায় এক যুবককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। শেরপুরে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, ছাত্রদল নেতা জিসান রোববার রাত ১১টার দিকে চকরিয়া শহর থেকে কাকারা ইউনিয়নের লোটনি গ্রামের নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। কাকারা গারাপাড়া রাস্তার মাথায় পৌঁছালে কয়েক ব্যক্তি তাঁকে জোর করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। এর পর আর তিনি বাড়ি ফেরেননি। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ গতকাল সোমবার ভোর ৫টার দিকে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া থানার ওসি আরিফুর রহমান।
জিসানের বাবার অভিযোগ, তাঁর ছেলেকে অপহরণ করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ ফেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি দোষীদের কঠিন শাস্তি চান।
জিসানের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। তবে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার নারীকে আটক করেছে। তারা রাত ১০টা পর্যন্ত পুলিশের হেফাজতে ছিলেন।
এদিকে, জিসানের মরদেহ ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে লোটনী গ্রামের নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এ সময় সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও দলীয় নেতাকর্মীর কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।
জিসানের মা মিনু আরার কান্না থামানো যাচ্ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমার উপার্জনক্ষম একমাত্র ছেলের অপরাধ কী ছিল? তাকে এত নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হলো কেন? এখন আমার তিন মেয়ের দায়িত্ব কে নেবে? তাদের লেখাপড়ার খরচ ও জীবন-জীবিকা কে নিশ্চিত করবে? আমার সন্তান হারানোর কারণে পুরো পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে।’
কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওহিদুর রহমান বলেন, অপরাধীকে গ্রেপ্তারের সব ধরনের প্রস্তুতি পুলিশের রয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও মামলা করা হয়নি। আটক নারীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
খুলনায় যুবককে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা
খুলনার রূপসা উপজেলায় বাপ্পি ওরফে কলম বাপ্পি (৩২) নামের এক যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার ভোরে উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের মোমিনবাগ এলাকার বিপ্লব পালের ঘের থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। বাপ্পি আলাইপুর গ্রামের মৃত আকবর আলীর ছেলে।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুখ জানান, ভোর সাড়ে ৬টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবার মাধ্যমে তারা মরদেহের সংবাদ পান। মরদেহের ডান পাশের কাঁধে দুটি গুলির চিহ্ন এবং কপাল ও মাথার পেছনে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
রূপসা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুস সবুর বলেন, বাপ্পির বাড়ি আলাইপুরে হলেও তাঁর কোনো স্থায়ী ঠিকানা নেই। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হাতে তিনি খুন হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
শেরপুরে ব্রহ্মপুত্র নদে অটোচালকের মরদেহ
শেরপুরের ভাগলগড়ে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপুরে সদর থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহত হাফিজুর রহমান রাসেল (৩০) পাথালিয়া গজাপাড়া এলাকার বাদল সেকের ছেলে।
জানা গেছে, স্থানীয় লোকজন নদীতে মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে তারা সদর থানায় খবর দেয়। শেরপুর সদর থানার ওসি খোকন চন্দ্র ঘোষ মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।
(ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য)
- বিষয় :
- মরদেহ উদ্ধার