ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে কবিতায় শহীদদের স্মরণ

জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে কবিতায় শহীদদের স্মরণ
×

ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৫ | ২০:২৪

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এখনও সব শহীদের মরদেহ শনাক্ত না হওয়া, মরদেহ হস্তান্তর না হওয়াসহ নানা বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কবি, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী এবং রাজনৈতিক চিন্তাবিদরা। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন তারা।

সোমবার জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে “জুলাই গণঅভ্যুত্থান–কবিতা ও কথা” শীর্ষক অনুষ্ঠানে তারা এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন ও হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।

এদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে অংশ নেন দেশের বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী এবং রাজনৈতিক চিন্তাবিদরা।

এসময় জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। জাতীয় কবিতা পরিষদ ও জাতীয় জাদুঘর এই অনুষ্ঠানের আয়োজনে ছিল।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ইমাম হাসান তায়িমের বড় ভাই ও “জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি”-এর সাধারণ সম্পাদক রবিউল আউয়াল ভূঁইয়া।

শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জুলাই সনদে শহীদ পরিবারের স্বাক্ষর নেই। এখনও সব শহীদের মরদেহ তাঁদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া রাষ্ট্রের বড় ব্যর্থতা।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি বলেন, আপনারা শহীদের রক্তের উপর ক্ষমতায় বসে আছেন, অথচ তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময় পাচ্ছেন না—এটা জাতির জন্য লজ্জাজনক।

জাতীয় কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, যতবার স্বৈরাচার ফিরে আসবে, কবিরা গর্জে উঠবে। শহীদের রক্তে অর্জিত এই দেশকে আমরা গণতান্ত্রিক ধারায় এগিয়ে নিতে চাই।

কবিতা পরিষদের সহ-সভাপতি কবি সোহরাব হাসান বলেন, ২৪-এর অভ্যুত্থানে কোনো একক নেতৃত্ব ছিল না। বহু শহীদের মরদেহ এখনও শনাক্ত হয়নি। আমাদের সংগ্রামের ইতিহাস আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তিনি এসময় পাঠ করেন তাঁর কবিতা ‘এক অজ্ঞাতনামা শহীদের জবানবন্দী’।

কবি শহীদুল্লাহ্ ফরায়জী বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান নিছক কোনো গণআন্দোলন ছিল না, এটি ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক প্রতিরোধের প্রতিচ্ছবি।

জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান বলেন, আমরা কবিরা জনগণের ক্ষমতায়ণ চাই। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, নেরুদা থেকে মায়াকোভস্কি—প্রতিবাদের প্রথম কণ্ঠস্বর সবসময় কবিতার মাধ্যমেই এসেছে।

অনুষ্ঠানে ‘জুলাই বিপ্লব’ বিষয়ক কবিতা সংকলন ‘সংকলন দিকচিহ্ন’র মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এরপর শতাধিক কবি একে একে অংশ নেন কবিতা পাঠে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন অনামিকা হক লিলি, এবিএম সোহেল রশীদ, শাহাবুদ্দীন নাগরী, শ্যামল জাকারিয়া, নূরুল ইসলাম মনি প্রমুখ।

সঙ্গীত পরিবেশনায় ছিলেন মিশু দাস, শিমুল পারভীন, পারহান উদ্দীন ও তাসিন সিদ্দিক অর্জন। উপস্থাপনায় ছিলেন কবি শিমুল পারভীন ও নাহিদ হাসান।

পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, সরকারের প্রতি জবাবদিহিতার দাবি এবং আগামীর একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রত্যয়।

আরও পড়ুন

×