‘অভিমান থেকে অধিনায়কত্ব ছাড়ছি না’, বললেন জ্যোতি
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:৩৭ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:০৯
এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটের সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ১১৪ রানের বড় ব্যবধানে হেরে স্বর্ণপদকের দৌড় থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ। ফ্ল্যাট উইকেটে ভারত বড় সংগ্রহ গড়ার পর রান তাড়ায় মাত্র ৮০ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে নিজেদের পারফরম্যান্সের দায় স্বীকার করেছেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। তার মতে, বোলিংয়ে আরও ভালো করতে পারলে ভারতের রান কিছুটা কমানো সম্ভব হতো, আর ব্যাটিংয়ে দায়িত্ব নিতে পারেননি তারা।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে জ্যোতি বলেন, ‘ফ্ল্যাট ট্র্যাক ছিল। আর অনেক ভালো ব্যাটিং করেছে ওরা। এত রানের যখন একটা তাড়া থাকে, তখন এসে এরকম অবস্থা হয়, এটা স্বাভাবিক বিষয়। তবে আমার কাছে মনে হয় আরেকটু ভালো বোলিং করলে হয়তোবা আরও কিছু কম রান হতো ওদের পক্ষ থেকে।’
একই উইকেটে শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান ১০৭ রান করে জিতেছে, বাংলাদেশের স্কোরও কি অনেক কম হয়ে গেছে? এমন প্রশ্নে জ্যোতির সরাসরি উত্তর, ‘অবশ্যই, অনেক বেশি কম করে ফেলছি।’ রান তাড়ার চাপের কারণে ব্যাটাররা দ্রুত রান তুলতে গিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
জ্যোতি বলেন, ‘একটা রানের চাপ থাকে, রান রেটের একটা চাপ থাকে। সবাই চাচ্ছিল যে যেন বাউন্ডারি বের করতে পারে, কিন্তু আমরা আউট হয়ে গেছি।’
ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে অধিনায়ক আরও বলেন, ‘এত অল্প রানে যখন ধস নামে, তাহলে আসলে আমরা ব্যাটার হিসেবে কোনো দায়িত্ব ওখানে নিই নাই।’
তার মতে, ৮০ রানের মতো লক্ষ্য তাড়া করতে গেলেও পাওয়ারপ্লেতে দ্রুত রান তোলার চাপ থাকে। তবে একজন টপ অর্ডার ব্যাটার শেষ পর্যন্ত টিকে থাকলে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারত। জ্যোতির ভাষায়, ‘টপ অর্ডারের ব্যাটাররা যদি কেউ একজন শেষ পর্যন্ত খেলতে পারত, হয়তোবা আমরা আরও কিছু রান অ্যাড করতে পারতাম।’
চীনে আসার পর আবহাওয়ার কারণে অনুশীলনের সুযোগ কম পাওয়া এবং চীনের বিপক্ষে নির্ধারিত প্রস্তুতি ম্যাচ বাতিল হওয়াও বাংলাদেশের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন জ্যোতি। তিনি বলেন, ‘আমাদের আসলে ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি আমরা আসলে এখানে কিচ্ছু পাইনি। বৃষ্টিও ছিল একদিন। আমরা দুইটা দিন অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছি। এখানে আসলে টার্ফেরও এরকম ব্যবস্থা নাই।’
চীনের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচটি হলে দলের জন্য ভালো হতো বলেও মনে করেন তিনি। ‘প্রথম দিন যে চায়নার সাথে ম্যাচটা ছিল, ওটা খেললে হয়তোবা ব্যাটারদের জন্য আরেকটু ভালো হতো। টিমের জন্য অনেক বেশি ভালো হতো। কিন্তু এই সুযোগটা আমরা মিস করে গেছি।’
সবকিছু মিলিয়ে ভারতের বিপক্ষে পুরো দলই প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারেনি বলে স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ‘সবমিলিয়ে পুরো দল আসলে অনেক বাজে ক্রিকেট খেলে ফেলছে।’
স্বর্ণের লড়াই শেষ হলেও সামনে ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচ। সেই ম্যাচকে বাড়তি চাপ হিসেবে দেখছেন না জ্যোতি। বরং সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি। ‘অত গভীরভাবে চিন্তা করতেছি না। দেখেন আরেকটা ম্যাচ, আমাদের কাছে সুযোগ আছে।’
ব্রোঞ্জ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে তিনি বলেন, ‘দল হিসেবে তো আমাদের সবার এটাই প্ল্যান থাকবে যে আমরা যেন এই সুযোগ মিস না করি।’
ব্রোঞ্জের ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হতে পারে পাকিস্তান। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ভালো রেকর্ড আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে বলে মনে করেন জ্যোতি। ‘পাকিস্তানের সাথে ভালো খেলার রেকর্ড আমাদের আছে। সম্প্রতি আমরা বিশ্বকাপে ভালো খেলছি, ওদের সাথে ম্যাচ জিতেছি ওখানে। সো এদিক থেকে তো একটা ব্যাপার তো আছেই।’
তবে শর্ত হিসেবে ব্যাটারদের রান করার ওপরই জোর দিয়েছেন তিনি। ‘এটা ব্যাটারদের খেলা, যদি ব্যাটাররা রান করতে পারে একটা মেডেল নিয়ে যাওয়ার একটা সুযোগ থাকবে।’
এর আগে অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন জ্যোতি। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের পরও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি পরিষ্কার করেন, সিদ্ধান্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা বা কোনো অভিমান থেকে নেওয়া নয়। জ্যোতি বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ার সাথে এটার কোনো বিষয় সম্পৃক্ত না।’
অধিনায়কত্ব ছাড়ার পেছনে ব্যক্তিগত অভিমান আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তার বক্তব্য, ‘না, না, না। আমার কাছে মনে হয় ব্যাটার হিসেবে, খেলোয়াড় হিসেবে আমার দেশকে বা দলকে আরও অনেক কিছু দেওয়ার আছে। তাই আমি এটার দিকে একটু মনোযোগ দিতে চাচ্ছি, এজন্যই এই সিদ্ধান্ত।’
ভারতের বিপক্ষে টানা ১০ ম্যাচ হারের প্রসঙ্গও উঠে আসে সংবাদ সম্মেলনে। একই সঙ্গে অতীতে বাংলাদেশ তিনবার ভারতকে হারিয়েছে। দুই দলের ব্যবধান এখন অনেক বেড়ে গেছে কি না, এমন প্রশ্নে জ্যোতি বলেন, ‘ভারতের সাথে আমাদের পার্থক্য অনেক বেশি।’