ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চোখের নীরব ঘাতক গ্লুকোমা

কিছু লক্ষণকে অবহেলা নয়

কিছু লক্ষণকে অবহেলা নয়
×

ডা. আহসান কবির 

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৪১

| প্রিন্ট সংস্করণ

জনসচেতনতা ও প্রচারমাধ্যমের উন্নতির ফলে বর্তমানে মানুষ বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে অনেক বেশি জানতে পারছে। চোখের একটি রোগ ‘গ্লুকোমা’ নিয়ে আজকাল বেশ আলোচনা হচ্ছে। এমনকি এখন নিয়মিত ‘বিশ্ব গ্লুকোমা দিবস’ও পালন করা হয়। যন্ত্রণাবিহীন অন্ধত্বের এই নীরব ঘাতক রোগটির নামই ‘গ্লুকোমা’। আসলে রোগটি যতটা ভয়াবহ মনে করা হয়, সঠিক সময়ে সচেতন হলে ততটা ভয়ের কারণ নেই। তাই জেনে নিন এর লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে।

গ্লুকোমা রোগটি কী?
চোখের নির্দিষ্ট আকৃতি বজায় রাখার জন্য এর ভেতরে দুই ধরনের তরল বা জলীয় পদার্থ থাকে। এই জলীয় পদার্থগুলো অনবরত তৈরি হয় এবং শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। কোনো কারণে যদি এই যাতায়াত ব্যবস্থায় বা নিষ্কাশন পথে বাধার সৃষ্টি হয়, তবে চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ বেড়ে যায়। এতে চোখের অপটিক নার্ভ বা স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়।

লক্ষণ ও সতর্কতা
গ্লুকোমা সাধারণত বংশগত রোগ। তাই পরিবারে কারও গ্লুকোমা থাকলে অন্যদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।
যাদের বয়স ৩০-এর ঊর্ধ্বে, যাদের ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ আছে, বা যাদের ঘনঘন চশমার পাওয়ার পরিবর্তন করতে হচ্ছে, তাদের সচেতন হতে হবে।
মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, চোখ লাল হওয়া, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া, অথবা রাতের বেলা লাইটের পাশে রংধনু রঙের বলয় দেখা–এগুলো গ্লুকোমার বিশেষ লক্ষণ। এছাড়া যারা দীর্ঘমেয়াদি স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করছেন, তাদেরও ঝুঁকি রয়েছে।
এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। রোগ শনাক্ত হলে নিয়মিত ওষুধ ব্যবহার এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যেতে হবে।
৪০ বছর ঊর্ধ্ব যেকোনো ব্যক্তির উচিত নিয়মিত চোখ পরীক্ষার সময় চিকিৎসককে গ্লুকোমার বিষয়ে সচেতনভাবে জিজ্ঞাসা করা। প্রয়োজনে অপারেশন বা লেজার চিকিৎসার মাধ্যমে চোখকে সুরক্ষিত রাখা যায়। তাই গ্লুকোমা নিয়ে ভয়ের কিছু নেই; সঠিক চিকিৎসায় আপনি স্বাভাবিক সুন্দর জীবনযাপন করতে পারেন।v

[চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ  ও ফেকো সার্জন, যশোর চক্ষু ক্লিনিক অ্যান্ড ফেকো সেন্টার]

আরও পড়ুন

×