প্রণোদনা বাড়লেও পতন থামেনি রেমিট্যান্সে
প্রতীকী ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২২ | ২৩:৪৪ | আপডেট: ০২ জুলাই ২০২২ | ০৭:১৯
বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স উৎসাহিত করতে প্রণোদনার হার বাড়িয়েছে সরকার। গত জানুয়ারি থেকে প্রণোদনা হিসেবে প্রতি ১০০ টাকায় বাড়তি আড়াই টাকা পাচ্ছেন প্রবাসীরা। এর আগে ১০০ টাকায় মিলত দুই টাকা। এর পরও প্রবাসীদের পাঠানো আয়ে ধারাবাহিক পতন অব্যাহত আছে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স কমেছে ২৮ কোটি ডলার বা প্রায় ১৬ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে আসা রেমিট্যান্স ছিল গত ২৩ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। আর জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অর্থবছরের আট মাসে এসেছে এক হাজার ৩৪৪ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৩২৫ কোটি ডলার বা ১৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ কম।
সংশ্নিষ্টরা জানান, করোনা শুরুর পর চরম আতঙ্কের মধ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরে রেমিট্যান্সের উত্থান ছিল অস্বাভাবিক। ওই উত্থানের মূলে ছিল পাচার কমে যাওয়া। সাধারণভাবে রেমিটারদের থেকে একটি চক্র বৈদেশিক মুদ্রা কিনে নিয়ে নেয়। আর সমপরিমাণ টাকা এখানকার সুবিধাভোগীর হাতে পৌঁছে দেয়। তবে করোনার প্রভাব শুরুর দিকে আতঙ্কের কারণে পাচারের চাহিদা কমে যায়। ফলে অনেকেই বেকার হলেও ওই অর্থবছরে রেমিট্যান্স আসে দুই হাজার ৪৭৮ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের তুলনায় যা ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি ছিল। তবে অনেকটা স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসার পর এখন আবার পাচারের প্রবণতা বেড়েছে। যার প্রভাবে কমছে রেমিট্যান্স। এ ছাড়া কর ফাঁকি দিতে একটি শ্রেণি আমদানি-রপ্তানিতে আন্ডার ইনভয়েসিং বা ওভার ইনভয়েসিং করে। এই শ্রেণিও হুন্ডি চক্র থেকে ডলার কিনে বিদেশে পরিশোধ করে।
রেমিট্যান্স কমলেও গত ডিসেম্বর পর্যন্ত আমদানিতে ৫৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। জানুয়ারি পর্যন্ত রপ্তানি বেড়েছে ৩০ শতাংশ। আমদানি ব্যাপক বাড়তে থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করছে। চলতি অর্থবছর এরই মধ্যে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যে কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৬ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমেছে।
- বিষয় :
- রেমিট্যান্স
- প্রণোদনা
- প্রবাসী